সংবাদদাতা, কাটোয়া: দু’দিন আগেও মেশিনে ধান কাটতে ঘণ্টায় যে টাকা লাগত, এখন তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এখন শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর। ফসল ঘরে তুলতে তাই মেশিনই ভরসা চাষিদের। সেই সুযোগে মেশিন ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ঝড়বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি মাঠের ধান ঘরে তুলতে মরিয়া শস্যগোলার চাষিরা। তাঁদের বক্তব্য, বোরো ধান চাষের বেশিটাই নির্ভর আবহাওয়ার উপর। কারণ প্রতিবছরই ধান পেকে যাওয়ার সময়ে কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টিতে ধানের দফারফা হয়ে যায়। এবারও কয়েকদিন আগে কাটোয়া সহ খড়ি নদীর পাড় এলাকাগুলিতে জল উপচে ধান জমি ভাসিয়ে দিয়েছিল। তাই ফের ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে বলে খবর মিলেছে। আর তড়িঘড়ি মাঠ থেকে ধান ঘরে তুলে নিতে টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে চাষিদের। মেশিনে ধান এক্কেবারে ঝেড়ে ঘরে তোলা যাবে। আর হাতে কাটলে তা আবার খামারে পড়ে থাকবে ঝাড়ার জন্য।
মঙ্গলকোটের ধারশোনা গ্রামের চাষি মন্টু শেখ, মণি শেখ বলেন, আগে মেশিনে ধান কাটতে ঘণ্টায় ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা নিত। এখন আমাদের তাড়াতাড়ি ধান ঘরে তুলতে হবে। তাই সেই সুযোগে ঘণ্টায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিচ্ছেন মেশিন মালিকরা। বাধ্য হয়ে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, নাহলে মাঠেই ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমায় ৩৩ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। তারমধ্যে কাটোয়া-১ ব্লকে ৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর ও কাটোয়া-২ ব্লকে ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল। এরমধ্যে খড়ি নদীর জলে কাটোয়া-২ ব্লকে বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে ২৪৫ হেক্টর জমি। কুয়ারাডাঙা, পলসোনা, দোনা, রোণ্ডা, শিলা, আউরিয়া, পাঁজোয়া, দরিয়াপুর এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। আর কাটোয়া-১ ব্লকে ব্রাহ্মণী নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে ৬৮ হেক্টর জমি। আলমপুর, অর্জুনডিহি, গাঁফুলিয়া, গোয়ালপাড়া, ভালশুনি এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিলের জমিও জলে ডুবেছে। কাটোয়া মহকুমা জুড়ে তিল লাগানো হয়েছে ৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমি।
তারমধ্যে কাটোয়া-১ ব্লকে ৬৮৫ হেক্টর ও কাটোয়া-২ ব্লকে ৬৬০ হেক্টর জমিতে তিল বোনা হয়েছিল৷ সব জলে ডুবে গিয়েছে। এখন প্রায়ই বিকেলে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। তাই তড়িঘড়ি পাঁচগুণ বেশি টাকা দিয়ে মেশিন ভাড়া করে ধান ঘরে তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। কাটোয়ার চাষি নিমাই মাল, সাধন হাজরা বলেন, মেশিন মালিক যখন সময় দিচ্ছেন, তখনই আমাদের ধান কেটে নিতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগের ঝড়ে আমাদের জমির ধান নুইয়ে পড়েছিল৷ তার উপরে বৃষ্টিতে সেই ধান গাছে পচন ধরেছিল। তাই যতটা তাড়াতাড়ি পারি কেটে নিচ্ছি। -নিজস্ব চিত্র