Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ছাড়াতে কাবাডির স্টেডিয়াম

স্কুলব্যাগ কোনওরকমে বাড়িতে রেখে দে ছুট। মাঠে ততক্ষণে সহপাঠীদের অনেকেই হাজির। একদিকে শুরু হল ক্রিকেট, অন্যদিকে ফুটবল খেলা।

বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ছাড়াতে কাবাডির স্টেডিয়াম
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: স্কুলব্যাগ কোনওরকমে বাড়িতে রেখে দে ছুট। মাঠে ততক্ষণে সহপাঠীদের অনেকেই হাজির। একদিকে শুরু হল ক্রিকেট, অন্যদিকে ফুটবল খেলা। মাঠের একপাশে চলছে কাবাডি, খো-খো। সূর্য ডোবার পর কাদামেখে বাড়ি ফেরা। ন’য়ের দশকের সেই চেনা ছবি এখন উধাও। এখনও কচিকাঁচারা মাঠে যায়। তবে ফুটবল বা ক্রিকেটের ব্যাট নিয়ে নয়, মোবাইল হাতে। ফাঁকা মাঠে বসে চলে মোবাইল গেম। চোখে জ্বালা ধরে যায়। তারপরও মোবাইলের স্ক্রিন থেকে দৃষ্টি সরে না। এই চিত্রের পরিবর্তন আনতে চাইছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। উদ্যোগী হয়েছেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, বর্ধমানের বাঁকা মাঠে আমরা শুধু কাবাডির জন্য স্টেডিয়াম তৈরি করতে চাইছি। সেখানে খো-খো খেলা বা ক্যারাটে শেখানো হবে। তারজন্য যাবতীয় প্রস্ততি নিচ্ছি। একসময় আমাদের জেলায় অনেক বড় বড় কাবাডি খেলোয়াড় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খেলে এসেছেন। নতুন প্রজন্ম উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয়রা বলেন, বাঁকা মাঠে কয়েকটি সংস্থা মেলার আয়োজন করে। বাকি সময় মাঠ ফাঁকা পড়ে থাকে। বর্ধমানে ফুটবল প্রতিযোগিতার জন্য স্টেডিয়াম রয়েছে। কাবাডির জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হলে ভালোই হবে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, আমরা বাঁকা মাঠের চারদিকে সৌন্দর্যায়নের কাজ করেছি। স্টেডিয়াম হলে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেডিয়াম তৈরির জন্য লিখিত আবেদন জমা হয়েছে। ডিপিআর তৈরির পর পরবর্তী কাজ শুরু হবে। ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের যুবক-যুবতীদের ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েরা মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকে। তাতে তাদের নানা সমস্যা হয়। নিয়মিত মাঠে গেলে শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও মনোযোগ বসে। মোবাইলের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লে পড়াশোনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই কারণেই নতুন প্রজন্মকে মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেসব খেলাগুলি একসময় জনপ্রিয় ছিল, সেগুলি আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মেয়েরা মাঠে গিয়ে ক্যারাটে শিখতে পারবে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। কাবাডির জন্য স্টেডিয়াম তৈরি করা জেলার বাসিন্দাদের স্বপ্ন। সেটা পূরণ হবে। প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া গেলেই কাজ শুরু হবে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হবে।

Advertisement

স্থানীয়রা  বলেন, এই প্রজন্ম বই আর মোবাইলের বাইরে যেতে চায় না। তাদের নতুন করে মাঠে ফেরানোর নেশা ধরানো গেলে তাতে সমাজের মঙ্গল হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ