Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পানিখালিতে পুড়ে ছাই ২ লক্ষ টাকার পাট, দমকলের ২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন

শনিবার ধানতলা থানার পানিখালি বাজারের কাছে ওই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়।

পানিখালিতে পুড়ে ছাই ২ লক্ষ টাকার পাট, দমকলের ২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন
  • ৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রাতে গুদামে আগুন লেগে লক্ষ লক্ষ টাকার পাট ভস্মীভূত হল। শনিবার ধানতলা থানার পানিখালি বাজারের কাছে ওই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বন্ধ গুদামে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে আগুন লাগল-তা জানতে দমকল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

পানিখালি-আড়ংঘাটা রাজ্য সড়কের কাছেই ওই বাজার রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দা শেখররঞ্জন ধরের বাড়ির সামনে একটি গুদামঘর ভাড়া নিয়েছিলেন স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী তপন অধিকারী। দেড়বছর ধরে সেখানেই তপনবাবু তাঁর ব্যবসার সমস্ত পাট মজুত রাখতেন। প্রায় ছ’-সাতলক্ষ টাকার পাট সেখানে মজুত ছিল। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ হঠাৎই স্থানীয় বাসিন্দারা বাজি ফাটানোর মতো একটি শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পরই ওই গুদামঘর থেকে প্রথমে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। পরে টিনের চাল ভেঙে আগুনের লেলিহান শিখা উপরে আসতে শুরু করে। আগুন ক্রমশ বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে দেখে প্রথমে স্থানীয়রাই তা নেভানোর কাজে হাত লাগান। বালতি বালতি জল ঢেলেও তাঁরা খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি। ততক্ষণে খবর পেয়ে দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। ওই গুদামের পাশেই একটি বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ছিল। সেই তারে আগুন ধরে গেলে বড় বিপদের সম্ভাবনা আঁচ করে দমকলকর্মীরা প্রথমে পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করেন। এরপর তাঁদের ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, যে গুদামে আগুন লেগেছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পাট মজুত করা হলেও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। রবিবার সকালে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অন্যান্য অনুমতিপত্র ছিল কিনা-তাও জানা যায়নি। তবে ওই বাড়ির মালিক শেখররঞ্জনবাবু বলেন, প্রচণ্ড জোরে বাজি ফাটার মতো আওয়াজ পেয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম, রাস্তায় কোনও বাজি ফেটেছে। তারপর হঠাৎ দেখি, গোডাউনের ভিতরের পাট দাউ দাউ করে জ্বলছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা দমকলে খবর দিই। রানাঘাট থেকে দমকলের ইঞ্জিন আসতে প্রায় ৪০মিনিট সময় লাগে। দমকলকর্মীদের আসতে যদি আর একটু দেরি হতো, তাহলে আমাদের বাড়ি ও আশপাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন ধরে যেত।
ভস্মীভূত গুদামের দুই কর্মী বলেন, সবমিলিয়ে  কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দমকলকর্মীরা আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছেন। বিশেষত যে গুদামে বিদ্যুতের সংযোগ নেই, সেখানে কীভাবে আচমকা আগুন লাগল-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ