Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাটের দাম চড়া, খুশির হাওয়া স্বর্ণশিল্পে

সোনার সঙ্গে পাটের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তবে, অর্থকরী গুরুত্বের কারণে পাটকে সোনার সঙ্গে তুলনা করেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বলা হয়ে থাকে—‘সোনালি তন্তু’।

পাটের দাম চড়া, খুশির হাওয়া স্বর্ণশিল্পে
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তাপস ঘোষ, বহরমপুর: সোনার সঙ্গে পাটের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তবে, অর্থকরী গুরুত্বের কারণে পাটকে সোনার সঙ্গে তুলনা করেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বলা হয়ে থাকে—‘সোনালি তন্তু’। এবার মুর্শিদাবাদ জেলায় সেই ‘সোনালি তন্তু’ই হয়ে উঠছে স্বর্ণশিল্পের ত্রাতা। 

Advertisement

বেশ কয়েকমাস ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম। গয়না কেনায় আগ্রহ হারিয়েছেন সাধারণ মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই স্বর্ণশিল্পে ভাটা পড়ে। সারাদিন ঝকঝকে দোকান খুলে বসে থাকলেও ক্রেতা আসতেন না। এমনকী, বিয়ের মরশুমেও সেভাবে ব্যবসা হয়নি। অন্যদিকে, পাটের চাষ এবার জেলায় বেশ ভালো হয়েছে। দামও মিলছে আশানুরূপ। তাতেই স্বর্ণশিল্প চাঙ্গা হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা। কেননা, এর আগেও এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে জেলা। পাটের উৎপাদন ও বিপণনের উপর নির্ভর করেছে স্বর্ণশিল্পের উত্থান। 
বেলডাঙায় এবছর ব্যাপকহারে পাটের চাষ হয়েছে। উৎপাদনও মন্দ নয়। দামও পাচ্ছেন চাষিরা। সেই সূত্রে খুশি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও। এখন থেকেই পুজোয় অলঙ্কার তৈরির বায়না আসতে শুরু করেছে। বিয়ের মরশুম পড়লে বায়নার পরিমাণ আরও বাড়বে। এতদিন কাজ না থাকায় বেলডাঙার বহু স্বর্ণশিল্পী ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে শুরু করেছিলেন। রাজ্যের শ্রমশ্রী প্রকল্পের ঘোষণা আর পাটের হাত ধরে সোনার ব্যবসায় মন্দা কাটতে শুরু করায় সিদ্ধান্ত বদল করছেন শিল্পীরা। তাঁরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাঙালি হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া অনেক ঝুঁকি। পাটের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে স্বর্ণশিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আমরাও বাড়িতে বসে কাজ পাচ্ছি। 
গত বছর চাষিরা কুইন্টাল প্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা হিসেবে পাটের দাম পেয়েছিলেন। এবার জেলায় সাত হাজার টাকা কুইন্টাল দরে পাটের বাজার খুলেছিল। দিন কয়েক আগে সেই দাম কুইন্টাল প্রতি ন’হাজার টাকা ছুঁয়েছিল। নওদার পাট চাষি সুজয় মণ্ডল বলছিলেন, ‘এবার পাট চাষে লাভের অঙ্ক অপ্রত্যাশিত বলা যায়। জমির পরিমাণ হিসেবে প্রত্যেক চাষির হাতেই মোটা অঙ্কের টাকা এসেছে। আমার মতো অনেকেই সোনা কেনার ঝোঁক বেড়েছে। তাই, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও খুশি।’ চাষিদের দাবি, এবার প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের গুণমান অত্যন্ত ভালো। ব্যবসায়ীরা কদর দিয়েই কিনছেন।
বেলডাঙা ব্লক, লাগোয়া নওদা ব্লকেও প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ হয়। পাট এবং পেঁয়াজ এই দুই ব্লকের অর্থকরী ফসল। কৃষি নির্ভর বেলডাঙা শহরের স্বর্ণ ব্যবসাও বহু প্রাচীন। শতাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে  প্রায় সাতশো স্বর্ণশিল্পী। পুজোর মুখে কম বেশি সব দোকানেই বরাত আসছে। বেলডাঙার স্বর্ণ ব্যবসায়ী ভুবন হালদার বলছিলেন, ‘মূলত এই এলাকায় চাষিদের উপরই আমাদের ব্যবসা নির্ভরশীল। পাট চাষিরা লাভবান হলে তার প্রভাব পড়ে স্বর্ণশিল্পে। এবার পাট চাষিরা ভালো মুনাফা করায় সোনার বাজার বেড়েছে। পুজোর আগে মুখে হাসি ফুটেছে স্বর্ণশিল্পীদেরও।’ স্বর্ণশিল্পী রাজেশ সাহার কথায়, ‘সংসারের চাহিদা অনুযায়ী কাজ না মেলায় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এবার পাটের বাজার সেই হতাশা দূর করে দিয়েছে। কাজ না পেয়ে অনেকেই ভিনরাজ্যে গিয়েছিলেন। আবার তাঁরা ফিরতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে ‘সোনালি তন্তু’ এবার যথার্থই সোনার ভূমিকায়।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ