Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হল দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য দিলেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হল দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে। বুধবার প্রথম দিনেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব সরকারকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করে সরকারপক্ষ। আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি জানান, তাঁর সামনে যখন নির্যাতিতার মোবাইলটি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখনই তাঁর সহপাঠী ওয়াসিফ আলির পাঠানো মেসেজগুলি ডিলিট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার মোবাইলে ওয়াসিফ নামে সেভ করা নম্বরটি বদলে ‘বাবি’ নাম হয়ে যায়। সরকার পক্ষের দাবি, প্রমাণ লোপাট করতে ওয়াসিফ আলি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেছিল। 

Advertisement

এদিন আদালতে দীর্ঘ জেরার মুখে পড়েন রাজীব সরকার। প্রথমে সরকার পক্ষ তাঁর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চান। জানা গিয়েছে, এই মামলায় রাজীব সরকারের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্যাতিতা সহপাঠী ওয়াসিফ আলি সহ মোট ছয় অভিযুক্তের মধ্যে দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজেদের গোপন জবানবন্দি দিয়েছিল। সেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছিলেন তৎকালীন এসিজেএমের দায়িত্বে থাকা রাজীব সরকারই। পাশাপাশি রাজীব সরকারই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দুর্গাপুর সংশোধনাগারে অভিযুক্তদের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করান। যেদিন তদন্তকারী অফিসার নির্যাতিতার সঙ্গে তাঁর সহপাঠী ওয়াসিফ আলির হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন আদালতের নজরদারিতে মোবাইল থেকে বের করে, সেদিনও এসিজিএমের দায়িত্বে ছিলেন এই রাজীব সরকারই। মামলার নানা পর্বে তাঁর ভূমিকা থাকায় একদিকে সরকার পক্ষের আইনজীবী তাঁকে দীর্ঘ জেরা করেন। অন্যদিকে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ফাঁকফোকর খুঁজে মামলার ঘাটতি তুলে ধরেন। আদালতে রাজীব সরকার জানান, নির্যাতিতাকে একটি ঘরে রাখা হয়েছিল। এই ঘরের জানলার ফাঁক দিয়ে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করানো হয়। এখানেই নির্যাতিতা ফিরদৌস শেখকে তাঁর ধর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। বাকি ৪ অভিযুক্তকেও সে চিহ্নিত করে। অভিযুক্তের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু, সৌমেন মিত্ররা এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। জানতে চান, জানলার ফাঁকে গ্যাপ কতটা ছিল? রিপোর্টে তার কেন উল্লেখ নেই। শেখর কুণ্ডু রাজীব সরকারকে প্রশ্ন করেন, অন্যান্য সাধারণ প্যারেডের ক্ষেত্রে কী হয়। অভিযোগকারী অভিযুক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে চিহ্নিত করেন। কেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হল, তার কোনও উল্লেখ নেই। তাঁরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মুখ দিয়ে বলিয়ে নেন যে, সেক্সচুয়াল অফেন্স নিয়ে টিআই প্যারেডের প্রক্রিয়া তিনি এর আগে করেননি। এর প্রক্রিয়া এতটাই দীর্ঘ ছিল তা সম্পন্ন করা যায়নি। ফের সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। রাজীব সরকারই সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সোমবার থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে বলে বিচারক জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের আইনজীবীর পক্ষ থেকে বাড়তি সময় চাওয়া হলে তীব্র প্রতিবাদ করেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ