নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রেমিকের হেফাজত থেকে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে উদ্ধারের পর সময়মতো আদালতে পেশ না করায় তদন্তকারী অফিসারকে ভর্ৎসনা করল আদালত। এখানেই থেমে না থেকে তাঁকে ওই কেসের দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য কাঁথির এসডিপিওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার উদ্ধার হওয়া তরুণীর প্রেমিকের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজুর আবেদন করলেও তা গ্রহণ করেনি কোর্ট। উল্টে ১০ হাজার টাকার বন্ডে ওই যুবকের জামিন দিয়েছে আদালত। এনিয়ে পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, তদন্তকারী অফিসার গাফিলতি করলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে। অন্য অফিসারকে কেসের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ একদম সঠিক।
গত ৮ মে ভূপতিনগর থানার পদ্মতামলি গ্রামের এক তরুণীকে তার প্রেমিকের জিম্মা থেকে উদ্ধার করে পুলিস। তার বয়স ১৮ বছর এক মাস। যদিও ২০২৪ সালে আগস্ট মাসে নাবালিকা অবস্থায় প্রেমিকের সঙ্গে চলে গিয়েছিল। এরপর তাঁর বাবা থানায় এফআইআর করেন। ৮ তারিখ তরুণীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ভগবানপুর থানার দেউলবাড় গ্রাম থেকে তাঁর প্রেমিক বাপি ঘোড়ইকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী অফিসার ওইদিন বাপিকে কাঁথির পকসো কোর্টে পেশ করলেও অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণীর জবানবন্দি নিতে কোর্টে পাঠাননি। তাঁকে নাবালিকাদের জন্য নির্দিষ্ট পাঁউশির হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গত ১১ মে ভূপতিনগর থানার তদন্তকারী অফিসার বিমলেন্দু দাস তরুণীকে উদ্ধারের বিষয়টি কোর্টের নজরে আনেন। এজন্য তদন্তকারী অফিসারের সমালোচনা করে আদালত। ১৫ মে ওই তরুণীর জবানবন্দির জন্য আদালতে পেশ করা হয়। বিচারকের কাছে নিজের বয়ান দিয়েছেন ওই তরুণী। ধৃত প্রেমিক জামিনের আবেদন করে। ১৯ তারিখ কোর্টে শুনানি ছিল। সেখানে ধৃত বাপির জামিনের বিরোধিতা করেন স্পেশাল পিপি চপলকুমার মহাপাত্র। তদন্তকারী অফিসার পকসো ধারা যুক্ত করার আর্জি জানান। বিচারক সব আর্জি নাকচ করে দেন। আদালত জানিয়েছে, তরুণীর বয়স ১৭ বছর পার হওয়ার পর প্রেমিকের সঙ্গে চলে গিয়েছিল। তখন তার কী কাজে, কী পরিণাম হতে পারে সেই ম্যাচুরিটি তার চলে এসেছিল।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তদন্তকারী অফিসার যেভাবে এই কেস তদন্ত করেছেন, তাতে আদালত চূড়ান্ত অসন্তুষ্ট। তাঁর অধীনে এই কেস থাকলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সাক্ষীদেরও প্রভাবিত করা হতে পারে। ৮ তারিখ উদ্ধারের পর কেন সময়মতো তরুণীকে আদালতে পেশ করা হয়নি, সেই প্রশ্নের জুতসই উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ওই সাব ইন্সপেক্টর। এই মামলার সত্য উদ্ঘাটনে তিনি উপযুক্ত নন বলেও মন্তব্য করেছে আদালত। এই অবস্থায় নতুন তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ করতে কাঁথির মহকুমা পুলিস অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন কাঁথির পকসো কোর্টের স্পেশাল বিচারক। অন্য অফিসারকে তদন্তভার দেওয়ার কপি আদালতে জমা করতে হবে।ওই তরুণীর পরিবারকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারের পর অযাচিত সুবিধা চাওয়া হয়েছিল। তাতে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে কোর্টে পেশ না করে হোমে পাঠানো হয়। নাবালিকাদের জন্য নির্দিষ্ট হোমে একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে রাখার ঘটনাও এককথায় নজিরবিহীন। তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।