Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার ১০৫

জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার ১০৫
  • ২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মায়ের নামে ভাগ্য পরীক্ষা! কালীপুজোর রাতে দেদার চলল জুয়া খেলা। তবে জুয়া খেলা ঠেকাতে সতর্ক ছিল পুলিস। মুর্শিদাবাদ পুলিস রাতভর অভিযান চালিয়ে জেলায় মোট ১০৫ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট দু’লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। পরিত্যক্ত বাড়ি, বাগান, ঝোপঝাড়ের মধ্যে মোমবাতি কিংবা মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে চলছিল জুয়ার আসর। ভাগীরথী ও পদ্মার পাড়েও এই আসর বসে। দুর্গম এলাকা হাওয়ায় পুলিস সর্বত্র অভিযান চালাতে পারেনি। তাছাড়া পুলিস আসার খবর পেয়ে অনেকেই আসর ছেড়ে চম্পট দেয়। না হলে গ্রেপ্তারির সংখ্যা অনেক বেশি হতো।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীপুজোর রাতে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য জেলার প্রতিটি থানা এলাকাতেই বসে জুয়ার বোর্ড। মাত্র দু’-তিন ঘণ্টায় লেনদেন হয় কোটি টাকার। মুহূর্তের মধ্যে কেউ হয়ে যান দেউলিয়া। কেউ বা বাড়ি নিয়ে যান টাকা ভর্তি ব্যাগ। এর ফলে অনেকে হতাশায় অপরাধ মূলক কাজ করে বসে। তারজন্য রাতে জেলাজুড়ে অভিযানে নামে পুলিস। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, কালীপুজোর রাতে অনেকেই নিজের ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা করেন। অবৈধভাবে জুয়ার আসরে টাকা উপার্জন করতে চান। এর ফলে নানা সমস্যা তৈরি হয়। আমরা অভিযান চালিয়ে রাতে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছি।
কালীপুজোর সন্ধ্যা থেকে বহরমপুরের নতুনবাজার, খাগড়া, কাশিমবাজার, রিংরোড, পঞ্চাননতলা, ভাকুড়ি, বানজেটিয়া, গোরাবাজার এলাকায় রাতের অন্ধকারে জুয়ার আসর বসে। জুয়া খেলার জায়গা হিসেবে গঙ্গার ধার ছিল জুয়াড়িদের প্রথম পছন্দের। পুলিসও বেশ সতর্ক ছিল। বহরমপুর থানার পুলিস অভিযান চালিয়ে ৩৯ জন জুয়াড়িকে পাকড়াও করে। বেলডাঙা থানার পুলিস বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। 
রানিতলা থানার আখেরিগঞ্জের পদ্মার চর এলাকায় জুয়ার আসর বসে। এক এক জায়গায় দলবদ্ধভাবে তাসের আসর বসায় জুয়াড়িরা। তাস দিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জুয়া খেলা চলতে থাকে। বেশ কিছু এলাকায় পুলিস আসার খবর পেয়ে অনেকেই তাস, এমনকী টাকা ফেলে রেখে চম্পট দেয়। অনেকে নিজের এলাকায় জুয়া খেলে না। বহরমপুর থেকে অনেকেই বেলডাঙায় গিয়ে জুয়া খেলে। আবার বেলডাঙার বাসিন্দারা রানিতলা এলাকায় গিয়ে জুয়া খেলে। যার ফলে আসর ছেড়ে পালিয়ে গেলে পুলিস আর জুয়াড়িদের নাগাল পায়নি। ভাগীরথীর চরের দুর্গম এলাকায় পুলিস পৌঁছতেও পারেনি। কোথাও মোমবাতির আলোয়, আবার কোথাও মোবাইলের আলোতেই চলে জুয়া খেলা। পুলিস আসার খবর পেয়ে আলো নিভিয়ে পালিয়ে যায় জুয়াড়িরা। ভগবানগোলার বাগডাঙা ও হোসনাবাদ এলাকায় জুয়ারা আসরের রমরমা দেখা যায়। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজনকে পাকড়াও করেছে পুলিস। অনেকেই আসর ছেড়ে পালিয়ে যায়। বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। কালীপুজোর রাতে তারা জুয়া খেলার আসর বসিয়েছিল। বেলডাঙা থানার আইসি জামালউদ্দিন মণ্ডল বলেন, রাত পর্যন্ত জুয়া খেলার দায়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ