Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বাঁধা গতের বাইরে চাকরির সুযোগ

বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসে নিশা। ছোটবেলায় বাড়িতেই ভাই বোনদের বেবি সিটিং করত সে অবসরে

বাঁধা গতের বাইরে চাকরির সুযোগ
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কমলিনী চক্রবর্তী: বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসে নিশা। ছোটবেলায় বাড়িতেই ভাই বোনদের বেবি সিটিং করত সে অবসরে। প্রতি শীতে বাড়ির তুতো ভাই বোনদের নানা ধরনের হাতের কাজ শিখিয়ে প্রদর্শনীরও আয়োজন করত। শুধু তাই নয়, পাড়ার বাচ্চাদের জোগাড় করে নাটক করানো, ছুটির দিনে স্পোর্টসের আয়োজন, বাচ্চাদের নিয়ে ছাদ পিকনিক ইত্যাদিই ছিল নিশার বরাবরের নেশা। 
অরণ্যর শখ বেড়ানো। শুধু দেশ বিদেশ ভ্রমণই নয়, কোথায় কবে গেলে সেই জায়গাটা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যাবে এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহও ছিল তার অবসর বিনোদন। বিভিন্ন জায়গার আলাদা ফোল্ডার তৈরি করে তথ্য জমানোর আগ্রহ থেকেই আত্মীয় মহলে ‘ভ্রমণ এনসাইক্লোপিডিয়া’ নামে খ্যাত হয়ে উঠল অরণ্য।
জিনার মন রান্নায়। সারাক্ষণ একটা উপকরণ দিয়ে ভিন্ন রান্না তৈরি করার রেসিপি ঘাঁটে সে। নিত্যনতুন উপকরণ সাজিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেও ভালোবাসে। বাড়িতে লোক নেমন্তন্ন করলে জিনার উপর ভরসা করেন সবাই। পাড়াতেও তার রান্নার কদর করেন অনেকেই। 
এরা সকলেই নিজেদের শখগুলোকে রোজগারে রূপান্তরিত করতে সফল। নিশার মন্তেসরি স্কুলে টডলার, লোয়ার কেজি, প্রেপ এই তিনটে ক্লাস মিলিয়ে ছাত্র সংখ্যা প্রায় দেড়শো। অরণ্য অনলাইনে ‘ট্রাভেল কনসালটেন্ট’ হিসেবে কাজ করে। আর জিনা খুলে ফেলেছে ফুড ডেলিভারির ব্যবসা। তবে এটুকুতেই খুশি নয় কেউ-ই। তিন জনই চায় ব্যবসাটাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে। 
নিশা, অরণ্য বা জিনার মতোই আপনারও নিশ্চয়ই কোনও না কোনও শখ রয়েছে। ভালোবাসা আছে বিশেষ কোনও কাজের প্রতি? সেই ভালোবাসাকে পেশায় বদলে ফেলতে চান? তাহলে কয়েকটি ধাপ মেনে শুরু করে দিন ভাবনাচিন্তা। বিজনেস কনসালটেন্ট দীপ্তি সরকার জানালেন, এই ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ‘স্টার্টআপ’ বলা হয়। আর সেই স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করতে চাইলে ব্যবসা সংক্রান্ত সঠিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ একটি প্ল্যান থাকা জরুরি। 

Advertisement

পরিকল্পনা থাকা চাই
ব্যবসা শুরু করার আগে একটা সুদৃঢ় পরিকল্পনা থাকা দরকার। তার জন্য ভাবনাগুলোকে একটা ছকে বেঁধে নিতে হবে। 
 প্রথমত কী বিষয়ে ব্যবসা শুরু করবেন সেটা ঠিক করুন। সেই নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করে নিন। পড়াশোনা করুন বিষয়টার উপর।
 দ্বিতীয় ধাপ হল মার্কেট সার্ভে। অর্থাৎ আপনার ব্যবসার চাহিদা কতটা সে বিষয়ে একটা ধারণা তৈরি করতে হবে। যে ব্যবসাটা করতে চান সেই সংক্রান্ত চাহিদা বাজারে রয়েছে কি না, যে অঞ্চলে ব্যবসা করবেন সেখানে লোকজনের কাছে বিষয়টা আদৌ পরিচিত কি না বা কতটা পরিচিত, এই জিনিসগুলো ঠিকমতো জেনে নিন।
 ব্যবসার পরিকল্পনা এক জায়গায় লিখে ফেলুন। নিজের গবেষণার উপর ভিত্তি করে ব্যবসার ধরন, তার চাহিদা এবং খুঁটিয়ে ব্যবসার ধাপগুলো ভেবে লিখুন। 
 ব্যবসার টাকা কীভাবে পাবেন সে বিষয়ে একটা সঠিক ধারণা তৈরি করুন। নিজস্ব সেভিংস, লোন, ইনভেস্টর ইত্যাদি কীভাবে কতটা খাটানো যাবে তা ঠিকমতো হিসেব করে নিন। 

আইনি দিক 
ব্যবসা শুরু করব বললেই যে করা যাবে তা তো নয়, তার জন্য বিভিন্ন আইনি দিক ভাবনার মধ্যে রাখতে হয়। এই আইনি দিকগুলো ব্যবসা অনুযায়ী ভিন্ন। তবে তারও মধ্যে কিছু সহজ গাইডলাইন  রয়েছে। প্রথমত, ব্যবসার নাম ঠিক করতে হবে। সেই নামে অন্য কোনও ব্যবসা আছে কি না সেটা দেখে নিতে হবে। একেবারেই ভিন্ন ধারার নাম বাছলে তা অন্য কিছুর সঙ্গে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। দ্বিতীয়ত, আপনার ব্যবসার জন্য সঠিক নথিভুক্তকরণ করানো প্রয়োজন। ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ সাইটে গিয়ে এই বিষয়ে বিশদে জানতে পারেন। আপনার ব্যবসার ধরন ও পরিমাপ অনুযায়ী সরকারি রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে অথবা হবে না। তৃতীয়ত, যে কোনও ব্যবসার ক্ষেত্রেই কিছু লাইসেন্স ও অনুমতি দরকার হয়। সেগুলো জোগাড় করে নিন। আপনার ব্যবসার উপযুক্ত কোন লাইসেন্স বা অনুমতি লাগবে তা জেনে নিয়ে জোগাড় করার কাজে নামুন।

পরিচিতি তৈরি
যে কোনও ব্যবসার ক্ষেত্রেই একটা পরিচিতি দরকার হয়। লোকে যাতে আপনার ব্যবসাটা নামে চেনে সেই জন্য নাম দিয়ে একটা ‘লোগো’ তৈরি করুন। লোগো ডিজাইন করার সময় দেখে নেবেন যাতে তা নামকে ছাপিয়ে না যায়। নামটা স্পষ্টভাবে পড়া যাবে এমন লোগো তৈরি করুন। ব্যবসার একটা জায়গা দরকার। অর্থাৎ একটা অনলাইন সাইট অথবা একটা অফলাইন অফিস, যেটাই করবেন সেটা লোকের মনে গেঁথে যেতে হবে। অনলাইনের ক্ষেত্রেও শুরু থেকেই বিজনেস অ্যাকাউন্ট থাকা উচিত।

গ্রাহকের আগ্রহ 
যে কোনও ব্যবসাকে লাভবান করে তুলতে গেলে গ্রাহককে আকর্ষণ করা ভীষণ জরুরি। এক্ষেত্রে সমাজ মাধ্যম একটা বড় ভূমিকা পালন করে। আপনার যাবতীয় সমাজ মাধ্যম ক্ষেত্র থেকে ব্যবসার বিজ্ঞাপন করুন। যে বিষয় নিয়ে ব্যবসা করছেন তার কিছু আকর্ষণীয় ভিডিও ও ছবি তুলে একটা কোলাজ তৈরি করুন। সেই কোলাজের সঙ্গে মানানসই একটা চিত্রনাট্য তৈরি করে তা পাঠ করুন ও সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটি আপনার সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন। এছাড়া ক্রেতা ও গ্রাহকদের আপনার ব্যবসায় সরাসরি অংশগ্রহণ করানোর উপায় বার করুন। ধরুন আপনি টডলার স্কুল খুলতে চান, তাহলে যে অঞ্চলে স্কুলটি খুলবেন সেখানকার লোকেদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের মতামত নিচ্ছেন, এই ধরনের একটা ভিডিও বানিয়ে সমাজ মাধ্যমে ছাড়ুন। যাঁরা সেই ভিডিওতে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা সবাই এই ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় আগ্রহী হবেন। এছাড়াও যাঁরা আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট হতে পারেন তাঁদের মতামত নিন ব্যবসা বিষয়ে। সেই মতামতকে গুরুত্ব সহকারে আপনার ব্যবসার কাজে লাগান। এইভাবে ক্লায়েন্ট বেস তৈরি হবে। 
        
ঋণ সংক্রান্ত খোঁজখবর
বিভিন্ন ব্যাঙ্কে গিয়ে ঋণের আবেদন করতে পারেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায় কারা লগ্নি করতে চায় এই তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও সরকারি সূত্র, প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কোথা থেকে পাওয়া সম্ভব সে বিষয়েও খবর রাখতে হবে। এবং সঠিক কাগজপত্র সহ ঋণের জন্য আবেদন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা ও স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া, এই দু’টি ক্ষেত্র থেকে স্টার্টআপ ব্যবসার ঋণ দেওয়া হয়। কীভাবে, কোথায় দরখাস্ত করতে হবে সেদিকে নজর রাখুন।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ