চলতি বিষয় না পড়লে চাকরি বা আয়ের সুযোগ কেমন? তা নিয়েই চলছে এই বিভাগ। মতামত জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বিষয় না পড়লে চাকরি বা আয়ের সুযোগ কেমন? তা নিয়েই চলছে এই বিভাগ। মতামত জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজেকে সাজাতে ভালোবাসেন বিদিশা। ত্বকের পরিচর্যা করার পাশাপাশি হাতের যত্ন নিতেও পছন্দ করেন তিনি। এমনকী সাজগোজের ট্রেন্ড সম্বন্ধেও খোঁজ কবর রাখেন নিয়মিত। সেই থেকেই জেনেছেন, এখন নখের পরিচর্যা ফ্যাশনে ভীষণ জনপ্রিয়। অনেকেই হাতের আঙুলে নকল নখ লাগাচ্ছেন। অনেকে আবার নিজের নখেই নানা রকম শেপ ও নকশা করছেন। নেল পলিশেরও বিভিন্ন স্টাইল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেউ বা নখ সাজাচ্ছেন মুক্তো দিয়ে। কেউ ব্যবহার করছেন গ্লিটার। সেই ট্রেন্ড বুঝেই নিজের প্রশিক্ষণের গতিপথ বদল করেছেন বিদিশা। নিজের হাতের নখের উপর প্রথম এক্সপেরিমেন্ট করেন। তা যখন বন্ধুদের চোখে পড়ল, তখন আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল বিদিশার। তারপর সেই ডিজাইন যখন প্রশংসা পেল, তখন আত্মবিশ্বাসের উপর ভর দিয়ে সাজগোজের এই ধরনটা নিয়ে রীতিমতো পড়াশোনা শুরু করে দে়ন তিনি। এই প্রশিক্ষণের ভিত্তিতেই বছর দুয়েকের মধ্যে বিদিশা গড়ে তুলেছেন নিজের নেল আর্ট স্যালোঁ।
মণিকার বরাবরের নেশা ছিল রূপচর্চা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার। সেই থেকেই চোখের সাজের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে তাঁর। আইশ্যাডো, মাস্কারা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে করতেই তাঁর নজর পড়ে নকল আইল্যাশের দিকে। বুঝতে সময় লাগেনি এটাই এখনকার তরুণীদের আকর্ষণ করছে সবচেয়ে বেশি। সেই মতো বিষয়টি নিয়ে গবেষণাও শুরু করে দে়ন মণিকা।
এই ধরনের পেশায় আপনারাও আসতে পারেন। রূপচর্চার প্রতি ভালোবাসা বা আগ্রহ থাকলে প্রাথমিক কাজটা তো সারাই হয়ে গেল। বাকি থাকবে বিশেষ কিছু প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণের দিক
এই বিষয়ে কথা হল ক্লিয়ার কাট স্যালোঁর নেল এক্সপার্ট চম্পার সঙ্গে। তিনি জানালেন, নেল স্টুডিও খুলতে গেলে বা নিজে নেল আর্ট নিয়ে কাজ করতে চাইলে এই প্রসঙ্গে বেসিক কোর্সটা করা দরকার। তার মধ্যে কী কী পড়ে? চম্পার কথা অনুযায়ী, নেল ফাইল করা, শেপ করা, বাড়তি নেল কেটে বাদ দেওয়া, তার ধার থেকে কিউটিকলস পরিষ্কার করে ফেলা, এগুলোই বেসিক কোর্স। এই জিনিসগুলো হাতেকলমে করতে জানতে হবে। এছাড়াও নেল বিটস চিনতে হবে। অর্থাৎ কোন আঙুলে কেমন নখ লাগাতে হবে, আঙুলের শেপ অনুযায়ী নখের ধরন কীভাবে এবং কতটা বদলে যাবে, এগুলোও শেখানো হয়
বেসিক কোর্সে।
এরপর আসে নখ সাজানোর বিষয়। তার জন্য নকল নখ কীভাবে লাগতে হবে, কতটা আঠা ব্যবহার করা উচিত, কী করে নখ সঠিক ভাবে লাগানো যায় এবং কী করলে নকল নখ দীর্ঘস্থায়ী হবে, উঠে যাবে না, এগুলো সম্পূর্ণ জানা প্রয়োজন। এই জিনিসগুলো জানলে তারপর আসে নখ সাজানোর পালা। সেখানে আবার নেলপলিশের রং, নখের ডিজাইন, নেলপলিশ কেমনভাবে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরা যায়। কেমন হাতে কোন ধরনের রং মানানসই— এগুলো শেখানো হয়। এছাড়াও অনেকে নেলপলিশের সঙ্গে মুক্ত, সিকুইন, গ্লিটার ইত্যাদিও ব্যবহার করতে চান। সেক্ষেত্রে কীভাবে তাঁর নখ সাজানো হবে এগুলোও জানা দরকার। এইসব শেখার পর তবেই নিজের স্টুডিও খোলা বা ফ্রিলান্স নেল আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করা উচিত।
শেখার খরচ
এই বেসিক কোর্স করার খরচ স্টুডিও ভিত্তিক। তবে মোটামুটি ৬০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। এরপর কোর্সে কী কী শেখানো হচ্ছে তার উপর খরচ বাড়ে। অনেক সময় তা ১০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। তবে বেসিক কোর্স শেখার পর যদি অ্যাডভান্সড কোর্স শিখতে চান তাহলে খরচটাও আর একটু বেশি হবে। সেক্ষেত্রে ২০ হাজার বা তারও কিছুটা বেশি হতে পারে প্রশিক্ষণের খরচ। তবে এটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে কী শিখছেন তার উপর।
নেল আর্ট এখন এতটাই জনপ্রিয় বিষয় যে তা নিয়ে অনেক কর্মশালারও আয়োজন হয়। অনেক নেল আর্টিস্ট কোনও একটা স্যালোঁ থেকে বেসিক কোর্স করার পর এইসব কর্মশালায় যোগ দিয়ে নিজের প্রশিক্ষণ আরও বাড়িয়ে নেন। কর্মশালায় খরচটা অনেক ক্ষেত্রেই একটু কম হয়।
অনেক নামী নেল এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। তাঁদের কাছে শেখার সুযোগ থাকে। সব মিলিয়ে নেল আর্ট নিয়ে যাঁরা আগ্রহী তাঁরা এই কর্মশালাগুলোয় অংশগ্রহণ করলে লাভবান হন। ক্রমশ এই ধরনের কর্মশালা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
রোজগারের পথ
এখন মেকআপ বিষয়ে লোকের ধারণা বদলে যাচ্ছে। আগে যেমন ভাবনা নিয়ে মহিলারা চলতেন, এখন তার চেয়ে অনেক ভিন্ন ধারণা পোষণ করেন তাঁরা। যেমন আগে সাজগোজের দুটোই ভাগ ছিল, মেকআপ আর চুলের যত্ন। এখন কিন্তু নেল আর্ট, আইল্যাশ এগুলোও সাজের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
বিশেষত নখের প্রসঙ্গে বলি, এটা সাজানোর জন্য, এক্সটেনশন ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে কোনও উৎসব বা পার্টির প্রয়োজন নেই। এখন দৈনন্দিন জীবনেও অনেকেই এই আর্ট করতে চাইছেন। ফলে নেল আর্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকলে রোজগারের সুযোগ প্রচুর।
আগে সব বিউটি পার্লারে নেল আর্ট সেকশন থাকত না। এখন কিন্তু ছোট বড় সব ধরনের বিউটি পার্লারেই এই সুবিধে থাকে। ফলে তার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকও লাগে। সেক্ষেত্রে এই কাজ শেখার পর বিউটি পার্লারে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া কেউ চাইলে নিজের নেল আর্ট স্টুডিও খুলতে পারেন। সেক্ষেত্রে নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা পাবেন। আবার কেউ হয়তো কোনও বিউটি স্যালোঁর সঙ্গে যুক্ত, তিনিও নিজের অবসরের সময়ে এই কাজে ফ্রিলান্সিং করতে পারেন। চাকরিও রইল আবার বাড়তি রোজগারের সুযোগও পাওয়া গেল।
এখানে ব্যবসার একটা সুবিধা আছে, একাই স্টুডিও খুলে কাজ করে নিতে পারেন। এজন্য কর্মচারীর খরচ দিতে হবে না। নেল স্টুডিও সেটআপ করতেও খুব কম জায়গা লাগে। দু’জনের মতো বসার জায়গা থাকলেই হবে।
এই ব্যবসা শুরু করতে চাইলে ৫০০০ টাকা পুঁজিই যথেষ্ট। নিজস্ব জ্ঞান, সৌন্দর্যবোধ আর নেল আর্ট সংক্রান্ত কিছু প্রোডাক্ট কিনেই ফ্রিলান্স ব্যবসাটা শুরু করা যায়। এর জন্য টাকাও লাগে খুবই কম। ফ্রিলান্স ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেলে নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলে নেল স্টুডিও খুলতে পারেন। তখন খরচ আর একটু বাড়বে।
ফলস আইল্যাশ
এই ধরনের সাজও ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আমাদের শহরে। অল্পবয়সি মেয়েরা অনেকেই আজকাল নকল আইল্যাশ লাগাচ্ছে চোখ আরও উজ্জ্বল করে তোলার জন্য।
এ বিষয়ে ক্লিয়ার কাট স্যালোঁর আর এক বিউটিশিয়ান বিউটি জানালেন, আইল্যাশ লাগানো এবং তোলা খুবই সহজ। এক্ষেত্রে ভীষণ স্কিন ফ্রেন্ডলি প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হয়। ফলে চোখের কোনও ক্ষতি এর মারফত হয় না। ত্বকের জন্য উপযুক্ত আঠা দিয়ে আইল্যাশ লাগানো হয়। তা লাগানো এবং তোলা খুবই সহজ। এতে চোখের ক্ষতি হয় না, আসল আইল্যাশেরও কোনও ক্ষতি হয় না। এবং লাগেও না। অথচ চোখ আরও উজ্জ্বল দেখায়।
বন্ধুদের পার্টি হোক বা বিয়ের নেমন্তন্ন, এই ধরনের নকল আইল্যাশ চোখের সাজে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে। এমনকী কনট্যাক্ট লেন্স পরলেও নকল আইল্যাশ পরতে পারেন। তবে সকলেই কোনও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তকে দিয়ে এই নকল আইল্যাশ লাগাতে চান। ফলে এই ধরনের কাজ শিখে মেকআপেও বাড়তি রোজগার করতে পারেন।
আইল্যাশের ক্ষেত্রে একটা ওয়াশ হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারওকে দিয়েই সেই ওয়াশ করাতে হয়। ফলে সেইসব কাজের জন্যও আইল্যাশ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি।
কেমন রোজগার
নেল এবং আইল্যাশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর রোজগার কেমন হতে পারে? একদম শুরুর দিকে নেলের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট পিছু ১০০০ টাকা থেকে রোজগার শুরু হয়।
আর আইল্যাশের ক্ষেত্রে একদম বেসিক কোর্স করা থাকলে ক্লায়েন্ট পিছু ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা রোজগার করা সম্ভব। এরপর যত রকম বা ধরনের কাজ করবেন এই দু’ক্ষেত্রেই, ততই রোজগারও বাড়বে।
প্রশিক্ষণ কোথায় নেবেন
বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য নেল স্টুডিও রয়েছে যেখান থেকে কাজ শেখা সম্ভব। অনেকে অ্যাপের মাধ্যমেও কাজ শিখে নেন। এছাড়াও বিভিন্ন বিউটি পার্লার রয়েছে যেখানে নেল আর্ট শেখানো হয়। একবার সঠিকভাবে শিখে নিলে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে।
কমলিনী চক্রবর্তী