Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি করত হুগলির প্রতারকরা

জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি করত হুগলির প্রতারকরা
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়েবসাইট ক্লোন করেছিল হুগলির খানাকুলের প্রতারক। সেই ওয়েবসাইট থেকেই সে জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র তৈরি করত। মঙ্গলবার বর্ধমান থানার পুলিস খানাকুল থেকে ভাস্কর সামন্তকে গ্রেপ্তার করেছে। সে এই চক্রের মূল পাণ্ডা। তাকে গ্রেপ্তার করেই পুলিস এই তথ্য পেয়েছে।
Advertisement
পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, সে একটি চক্রের মাধ্যমে প্রতারণা চালাত। সিঙ্গুরের গণেশ চক্রবর্তী এবং অর্নিবাণ সামন্ত তাকে জাল সার্টিফিকেট তৈরির অর্ডার দিত। পুলিস ওই দু’জনকেও গ্রেপ্তার করেছে। তারা গ্রাহক জোগাড় করার জন্য বিভিন্ন জেলায় এজেন্ট ছড়িয়ে রেখেছিল। গ্রাহক পিছু তারা এ঩জেন্টদের কমিশন দিত। জাল জন্ম সার্টিফিকেট তৈরি করতে চক্রটি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা নিত। সিংহ ভাগ টাকা খানাকুলের প্রতারক পেত। তার একটি সাইবার ক্যাফে রয়েছে। ওয়েবসাইট ক্লোন করার শিক্ষা সে অনেক আগেই পেয়েছে। জন্ম, মৃত্যু সার্টিফিকেট ছাড়াও সে নকল আধার এবং প্যানকার্ডও তৈরি করেছে। বহুদিন ধ঩রেই সে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
কীভাবে প্রতারণা সামনে এল? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে রিঙ্কা দাস নাম বর্ধমানের এক বাসিন্দা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদনপত্রর সঙ্গে জন্ম সার্টিফিকেটও তিনি জমা করেছিলেন। সেটা দেখে ডিআইবি আধিকারিকদের সন্দেহ হয়। তাঁরা সেটি যাচাই করার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, সার্টিফিকেটটি জাল। এরপরই বর্ধমান থানা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। গত ১৯ ডিসেম্বর রিঙ্কা দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন বর্ধমান শহরের বড়নীলপুরের বাসিন্দা স্বরূপ রায় তাকে সার্টিফিকেটটি জোগাড় করে দিয়েছিল। স্বরূপকেও পুলিস গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে পুলিস সিঙ্গুরের দু’জনের সন্ধান পায়। ওই দু’জন তাকে সার্টিফিকেটে তৈরি করে দেয়। তাদের কথা মতো সে সার্টিফিকেট সরবরাহ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয়। অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের সকলকেই সে সিঙ্গুরের ওই দু’জনের মাধ্যমে সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিয়েছিল। পরে পুলিস তার বয়ান নিয়ে গণেশ চক্রবর্তী এবং অর্নিবাণ সামন্তকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে খানাকুলের বাসিন্দা মূলচক্রীর সন্ধান পুলিস পায়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বর্ধমান থানার পুলিস খানাকুলে যায়। বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতর কাছে থেকে আইফোনসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সে অন্যান্য জেলাতেও ভুয়ো সার্টিফিকেট সরবরাহ করেছে। তবে সেই সার্টিফিকেট নিয়ে কেউ পাসপোর্ট তৈরি করেছে কি না তা তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। এছাড়া ভুয়ো মৃত্যু সার্টিফিকেটেরও অনেকে অপব্যবহার করতে পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ