সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের কুলটিকরির জঙ্গলকুড়চি গ্রামে বড়াম দেবীর পুজোয় উপচে পড়ল ভক্তের ভিড়। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে এই দেবীর থানে মানত শোধ করতে দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় করেন। মূলত পথ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বহু বছর আগে থেকে জঙ্গল অধ্যুষিত এই জায়গায় বড়াম মায়ের পুজো শুরু হয়। এমনিতে সারা বছরই সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার, এই দু’ দিন মায়ের পুজো হয়। বছরে একদিন পৌষ সংক্রান্তিতে ঘটা ও সমারোহের সঙ্গে এখানে বড় আকারে পুজো হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পুজো পরিচালন কমিটি।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামের গুপ্তমণি, কনকদুর্গা, সাঁকরাইলের পাথরা জয়চণ্ডী, কঁদাইবুড়ি, মেদিনীপুরের বামনবুড়ি, ঝাড়খণ্ডের রঙ্কনী, হাতিখেদা এই সমস্ত এলাকার লোকজ দেবদেবীর থানগুলিতে সারা বছরই পূজার্চনা হয়। ভক্তরা মনস্কামনা পূর্ণ করার জন্য মন্দিরগুলিতে পুজো দেন। একইভাবে জঙ্গলকুড়চির কুলটিকরিতে স্থানীয় মানুষ বড়াম দেবীর পুজো শুরু করেন। জানা গিয়েছে, কুলটিকরি থেকে গুপ্তমণি যাতায়াতের রাস্তায় হামেশাই পথ দুর্ঘটনা ঘটত। এই রাস্তার উপর দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের বিশ্বাস, মা বড়াম সন্তুষ্ট নয় বলেই দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে। পুজো পরিচালন কমিটির এক সদস্য দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে আট বছর আগে এখানে বড় আকারে পুজো শুরু করেন। তৈরি হয় পুজো কমিটি। সেই কমিটির হাত ধরে এখন জাঁকজমক সহকারে পুজো হচ্ছে। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে স্থানীয় কুলটিকরি, বাঘোয়াশোল, আহানা, মুকুন্দপুর প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা ছাড়াও দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। পুজোয় মোরগ ও পাঁঠাবলি হয়। পুজোর থানে দান করা হয় মাটির হাতি ও ঘোড়ার মূর্তি।



