নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জোড়া পথ দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যুকে ঘিরে মঙ্গলবার ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল শিল্পাঞ্চল। সকালে রানিগঞ্জের সার্ভস রোডে তেলের ট্যাঙ্কার পিষে দেয় মহম্মদ শামিম (৪৬) নামে এক সাইকেল আরোহীকে। তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িক বিক্ষোভও দেখান। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন বেলায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে জামুড়িয়ার চাঁদামোড়ে। বেপরোয়া একটি বেসরকারি বাসের চাকায় পিষ্ট হন বছর সাতষট্টির বাইক চালক কল্যাণকুমার মণ্ডল। বাড়ি কল্যাণপুরে। রানিগঞ্জের ঘটনায় তেমন কোনও অশান্তি না হলেও তেতে ওঠে চাঁদামোড়। স্থানীয় মানুষের অবরোধ বিক্ষোভে দীর্ঘ প্রায় ৪৫ মিনিট স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতা-দিল্লি ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক। জানা গিয়েছে, আসানসোল থেকে রানিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন কল্যাণবাবু। চাঁদামোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সিগন্যাল সবুজ হতেই দ্রুত গতিতে একটি বেসরকারি বাস তাঁকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়েন তিনি। পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় তাঁর মাথা। এলাকাটি বেশ জনবহুল। সেখানে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিলই। পুলিসের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগও উঠছিল। এদিন দুর্ঘটনার পর সেই ক্ষোভের আগুনে যেন ঘি পড়ে। কল্যাণবাবুর দেহ জাতীয় সড়কে রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ, অবরোধ। পুলিস এলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুলিসের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ জানাতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। তা নিয়ে দফায় দফায় ঝামেলা বাধে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পরে বিশাল বাহিনী এসে বিক্ষোভ তোলে। বিক্ষোভকারী মনোরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, ট্রাফিক পুলিস যান নিয়ন্ত্রণ না করে টাকা তুলতে ব্যস্ত থাকে। তাই দুর্ঘটনা ঘটছে।’



