নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের সীমানা দিয়ে রাতে ভিনরাজ্যে আলু পাচার চলছেই। রাজ্য ও জাতীয় সড়কের সঙ্গে গ্ৰামীণ রাস্তাতেও নাকা চেকিং হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আলু পাচার থামানো যাচ্ছে না। একের পর এক অবৈধ আলু বোঝাই লরি সীমানায় আটক হচ্ছে। শুক্রবার ভোররাতে জামবনির চিচিড়া সীমানায় আলুবোঝাই তিনটি লরি আটক করা হয়েছে। তিনজনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে।
Advertisement
ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন সীমানায় গত ২৭ নভেম্বরে থেকে আলু পাচার রুখতে কড়া নজরদারি চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই জেলার ৭৪টি জায়গায় নাকা চেকিং বসানো হয়েছে। জামবনি ব্লকেই রয়েছে ৩৯টি নাকা চেকিং। আন্তঃজেলা নাকাও চেকিংও পাশাপাশি চলছে। গত মঙ্গলবার নয়গ্ৰাম থানার ডাহি নাকা চেক পয়েন্টে তিনটি আলু বোঝাই লরিকে আটক করা হয়েছিল। তিন চালক সহ পাচার চক্রের দুই মাথা ধরা পড়ে। শুক্রবার ভোররাতে জামবনির চিচিড়া সীমানায় ফের তিনটি আলু বোঝাই লরিকে আটক করা হয়েছে। আলুর গাড়ি পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। জেলার একাধিক জায়গায় নাকা চেকিং পোস্ট রয়েছে। ঝাড়গ্রাম থানার মানিকপাড়ার বালিভাসা, নয়াগ্ৰামের ধুমসাই, ছোট ধানশোলা, চাউলখুলিয়া, গোপীবল্লভপুর থানার হাতিবাড়ি ও নুড়িশোলে নাকা চেকিং চলছে। জামবনি থানার কমবেশি প্রতিটি রাস্তায় নাকা চেকিং হচ্ছে। কোথাও দু’জন, কোথাও চারজন পুলিস নাকা চেকিংয়ে রয়েছেন। তারপরেও আলু বোঝাই লরি নাকা চেকিং পোস্ট পেরিয়ে সীমানায় পৌঁছে যাচ্ছে। পুলিসের নাকা চেকিংয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জামবনি থানার ঢ্যাংবহঢ়া দিয়ে আলুবোঝাই লরি পাচারের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এরপরেই কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলায় ছুটে আসেন। পুলিস প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। গ্ৰামবাসীদেরও আলু পাচার রুখতে নজরদারির আবেদন জানান। গ্ৰেপ্তার হওয়ার আগে আলুবোঝাই লরির চালক রাজা বেহরা এদিন বলেন, আলুর লরি চন্দ্রকোণা টাউন থেকে ঝাড়গ্রাম হয়ে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ছিল। গতকাল রাতে বের হয়েছিলাম। তবে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বৈধ অনুমোদন ছিল না। অনান্য চেকিং পোস্ট পেরিয়ে জামবনি সীমানার শেষ প্রান্তে লরি কীভাবে পৌঁছল তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও উত্তর মেলেনি। জামবনি ব্লকের সোনামুখী গ্ৰামের এক বাসিন্দা বলেন, মন্ত্রী এই এলাকায় আসার পর পুলিসের নজরদারি বেড়েছে। গ্ৰামের রাস্তা দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল আগের থেকে কমে গিয়েছে। পাচারকারীরা কি তবে আলু পাচারে অন্য কৌশল নিচ্ছে? জেলার সীমানায় পরপর আলু বোঝাই লরি আটক সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জেলা পুলিসের উচ্চমহল এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। ঝাড়গ্ৰামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস ফোন ধরেননি। জামবনি থানার পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, চিচিড়া সীমানা থেকে এদিন শেখ সাবির আলি, বাপ্পা গড়াই ও রাজা বেরাকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। তিনজনেরই বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়।



