Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলাজুড়ে রমরমিয়ে চলছে ৭৪টি অবৈধ ইটভাটা, ক্ষোভ

জেলাজুড়ে রমরমিয়ে চলছে ৭৪টি অবৈধ ইটভাটা, ক্ষোভ
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: জেলাজুড়ে বাড়ছে অবৈধ ইটভাটা। ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকাতেই মূলত এই অবৈধ ইটভাটা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই ভাটাগুলি প্রধানত বেআইনি কয়লা দিয়ে রমরমিয়ে চলছে। ফলে তাদের ইটের দাম কম। বেআইনি ভাটার দৌরাত্ম্যে বন্ধের মুখে একের পর এক বৈধ ইটভাটাগুলি। এবিষয়ে হেলদোল নেই জেলা ভূমি রাজস্ব দপ্তরের। জেলা পুলিস ও প্রশাসনের উদ্যোগে ঝাড়খণ্ড ও পাণ্ডবেশ্বর থেকে আসা বেআইনি কয়লা পাচার বন্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারপরও বেআইনি কয়লা পাচার অব্যাহত রয়েছে। আর তা দিয়েই রমরমিয়ে চলছে বেআইনি ইটভাটাগুলি। এতে রা‌জ্য সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি রাজস্ব) অসীম পাল বলেন, সম্প্রতি ভাটা মালিকদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে অবৈধ ভাটা মালিকদের কাজগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। তার পরেও কেউ ভাটা তৈরি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএলএলআরওদের বলা হয়েছে।
Advertisement
জেলার বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা গুলি। তবে বেআইনি ইটভাটা করার টার্গেট এলাকা হল দুবরাজপুর, খয়রাশোল, কাঁকড়তলা সহ ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী এলাকা। কারণ ওই এলাকায় সহজেই পাওয়া যাচ্ছে চোরাই কয়লা। আর সেই কয়লা দিয়েই মাটি পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ইট। অল্প দামে চোরাই কয়লা কিনে চলছে বেআইনি ভাটাগুলি। তাদের ইটের দামও কম। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে একাধিক বৈধ ইটভাটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 
বীরভূম ব্রিকস ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, জেলাজুড়ে প্রায় ৪০০ ইটভাটা রয়েছে। আর তার মধ্যে ২৭৮টি ভাটা বৈধ। ১২২টি ভাটা অবৈধ। তবে, বেশকিছু ভাটা মালিক বৈধতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু বীরভূম জেলা প্রশাসন বলছে, নথিভুক্ত ভাটার সংখ্যা ২৪৬টি। আর ৭৪টি অবৈধ ভাটা রয়েছে। তাদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইটভাটা মালিকদের একাংশের দাবি, জেলার বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী এলাকায় চাষিদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে বেআইনি ইটভাটা তৈরি করা হচ্ছে। তারা কেনও পরিবেশ বিধি মানছে না। ফলে দূষণ ছড়াচ্ছে।  বৈধ ভাটা মালিকদের অভিযোগ, কয়লার বর্তমান মূল্য ১১ হাজার টাকা প্রতি টন। আর চোরাই কয়লার দাম আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা প্রতি টন। বেআইনি ভাটাগুলি কম দামে চোরাই কয়লা কিনে রমরমিয়ে চলছে। তাদের ইটের দামও কম। এতে বৈধ ভাটাগুলি প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে না পেরে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
 ভাটা মালিকদের আরও অভিযোগ, বাংলা ভাটার অনুমোদন না থাকলেও জেলাজুড়ে প্রায় শতাধিক বাংলা ভাটা চলছে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ ইটভাটা চলায় প্রচুর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। 
বীরভূম ব্রিকস ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার  অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সম্পাদক সৈয়দ মাহফুজ করিম বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি করছি আইন সরলীকরণের মাধ্যমে অবৈধ ভাটাগুলিকে  বৈধতা দেওয়া হোক। তাতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। চোরাই কয়লায় চলা ভাটাগুলি কম দামে বাজারে ইট বিক্রি করছে। ফলে লোকসানের বোঝা বইতে না পেরে প্রায় ৩০ শতাংশ ভাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অবৈধ ভাটাগুলিকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। 
সম্পর্কিত সংবাদ