Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় গতবারের চেয়ে এবার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়াল খাদ্যদপ্তর

জেলায় গতবারের চেয়ে এবার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়াল খাদ্যদপ্তর
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান বিক্রিতে আগ্রহ বাড়ল বীরভূম জেলায় চাষিদের। মাত্র কয়েকদিনেই ৫২০ মেট্রিক টন ধান কিনল রাজ্য সরকার। ধান বিক্রির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবার পারচেজিং সেন্টারের সংখ্যা বাড়িয়েছে খাদ্যদপ্তর। সেই সঙ্গে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ামক অমৃত ঘোষ বলেন, সহায়ক মূল্য বাড়ায় ধান বিক্রিতে চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। এখন পুরোদমে ধান কাটা হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে চাষিদের ভিড় বাড়বে। 
Advertisement
গতবছর ধানের কুইন্টাল প্রতি সহায়ক মূল্য ছিল ২১৮৩ টাকা। এবছর সেই সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি একলাফে ১১৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৩০০ টাকা। গত বছর জেলার প্রতিটি ব্লক মিলিয়ে পারচেজিং সেন্টার ও মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে চাষিদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান সংগ্রহ করেছিল খাদ্যদপ্তর। এবার চাষিদের আগ্রহ দেখে সেই মোবাইল ভ্যানের সংখ্যা ৬টি বাড়ানো হয়েছে।  গতবছর ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন ধান কিনেছিল খাদ্যদপ্তর। এবছর ধান কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে ৪ লক্ষ ৮ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে। খাদ্যদপ্তর সূত্রে খবর, এরছর আগ্রহী চাষির রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজারের মতো। 
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার জন্য এবছর ২ নভেম্বর থেকে ৫৯ প্যাডি পারচেজিং সেন্টার খোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি মোবাইল ভ্যান। এছাড়াও বিভিন্ন সমবায় ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ধান কেনা হচ্ছে। ওজন যাতে স্বচ্ছ হয়, তার জন্য প্রতিটি ক্রয় কেন্দ্রে ইলেকট্রিক যন্ত্রের ব্যবহার করা হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকরা সেই ধান লরিতে চাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 
নলহাটির চাষি অমল মণ্ডল, বিবেকানন্দ মণ্ডলরা বলেন, এবছর বৃষ্টির অভাবে সেভাবে ধান চাষ করা যায়নি। সেচের মাধ্যমে অল্প জমিতে চাষ করেছি। তবে সরকার ধান কেনার সহায়ক মূল্য বাড়ানোয় ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে।  
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষায় একের পর এক নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে ধান উঠতে সময় লাগছে। অধিকাংশ জায়গায় ধান কাটা ও ঝাড়াইয়ের কাজ চলছে। ফলে সঠিক কী পরিমাণ এবার ধান উৎপাদন হয়েছে সেব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা। 
প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, খোলাবাজারের তুলনায় সরকারি উদ্যোগে বেশি রেট পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্য সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রিতে বেশি সাড়া পড়ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে টার্গেটের ধারেকাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানাচ্ছেন দপ্তরের কর্তারা। তাঁরা বলেন, কৃষকরা খোলাবাজারে ধান বিক্রি করে যে দাম পান, তার থেকে অনেক বেশি দাম পান সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে। শুধুমাত্র কৃষকরাই যাতে এই সুবিধা পান, তার জন্য সচেষ্ট রয়েছি। ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ফড়েদের উৎপাত যাতে না হয়, তারজন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। 
জেলা খাদ্য নিয়ামক বলেন, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই প্রতিটি ধান ক্রয়কেন্দ্রে চাষিদের চাপ বাড়বে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত এই ধান কেনা চলবে।  
সম্পর্কিত সংবাদ