নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শেষ এক বছরে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলা এলাকায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার জনের! সিউড়ি সদর হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় তিন হাজার জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে শুধুমাত্র পথ দুর্ঘটনায়। এর মধ্যে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা সবথেকে বেশি। গোটা জেলার হিসাব ধরলে সংখ্যাটা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বীরভূমে পথ দুর্ঘটনাতে এত সংখ্যক মৃত্যু কেন, প্রশ্ন সকলেরই মনে।
Advertisement
বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, শেষ এক বছরে প্রায় তিন হাজার জন পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। সিউড়ি হাসপাতালের রিপোর্ট খাতায় সেই তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে। দুর্ঘটনায় এত মৃত্যু নিয়ে সকলেরই উদ্বেগ হওয়াই স্বাভাবিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বেপরোয়া যান চলাচল ছাড়া বহু ক্ষেত্রে বেহাল রাস্তার জন্যও দুর্ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে।
রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক এমনিতেই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দুবরাজপুর থেকে সিউড়ি হয়ে রামপুরহাট পর্যন্ত রাস্তায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষজনের মৃত্যু হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিকালেও সিউড়িতে জাতীয় সড়কের উপর একটি পেট্রল পাম্পের কাছে এক বাইক আরোহী স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়। মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক ও দুধ নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় ডাম্পারের সঙ্গে ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। এইরকম ঘটনা নিত্যদিন ঘটছে। এখন গোটা জাতীয় সড়কজুড়েই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাইক, স্কুটি চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য এদিক ওদিক হলেই যে কেউ গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে যাবেন।সব থেকে চিন্তার বিষয়, বেপরোয়া গতিতে লরি, ডাম্পার চলা। দেখা যায়, পাথর, বালি বোঝাই লরি, ডাম্পারগুলি কিছুটা সাবধানে চলে। কিন্তু খালি গাড়িগুলি একেবারে বেপরোয়া। পাথর, বালি বোঝাই করতে যাওয়ার সময় চালকের পরিবর্তে খালাসিদের হাতে স্টিয়ারিং চলে যাচ্ছে। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য খালাসিরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। ফলে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এতে মারা যাচ্ছেন চারচাকা গাড়ির চালক কিংবা বাইক আরোহীরা। একইভাবে রাজ্য সড়কেও হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে।
কিন্তু এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কে? অনেকের দাবি, অন্যান্য জেলাতে এত ওভারলোড গাড়ি চলে না। এখানে মহম্মদবাজার, নলহাটি, রামপুরহাট থেকে হাজার হাজার লরি বিভিন্ন রাস্তা ধরে যাতায়াত করছে। সেই কারণে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে। সিউড়িতে জাতীয় সড়কের ধারে বসবাসকারী রঘুবর সাহা বলেন, গোটা রাস্তাতেই গর্ত। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা বসে গিয়েছে। তাই বাইক চালানো মানে জীবন হাতে নিয়ে যাওয়া। আর গাড়ি চালকরা কী অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছে তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
পুলিসের সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচি আদৌ কোনও কাজে আসছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিস যান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে ঠিক কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটাও দেখার বিষয়। তবে এক বছরে পথ দুর্ঘটনায় এত জনের মৃত্যু চমকে দেওয়ার মতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মৃত্যুর মিছিল আগামী দিনে কমবে কিনা এখন সেটাই দেখার।
রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক এমনিতেই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দুবরাজপুর থেকে সিউড়ি হয়ে রামপুরহাট পর্যন্ত রাস্তায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষজনের মৃত্যু হচ্ছে। গত মঙ্গলবার বিকালেও সিউড়িতে জাতীয় সড়কের উপর একটি পেট্রল পাম্পের কাছে এক বাইক আরোহী স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়। মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক ও দুধ নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় ডাম্পারের সঙ্গে ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। এইরকম ঘটনা নিত্যদিন ঘটছে। এখন গোটা জাতীয় সড়কজুড়েই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বাইক, স্কুটি চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য এদিক ওদিক হলেই যে কেউ গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে যাবেন।সব থেকে চিন্তার বিষয়, বেপরোয়া গতিতে লরি, ডাম্পার চলা। দেখা যায়, পাথর, বালি বোঝাই লরি, ডাম্পারগুলি কিছুটা সাবধানে চলে। কিন্তু খালি গাড়িগুলি একেবারে বেপরোয়া। পাথর, বালি বোঝাই করতে যাওয়ার সময় চালকের পরিবর্তে খালাসিদের হাতে স্টিয়ারিং চলে যাচ্ছে। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য খালাসিরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। ফলে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এতে মারা যাচ্ছেন চারচাকা গাড়ির চালক কিংবা বাইক আরোহীরা। একইভাবে রাজ্য সড়কেও হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে।
কিন্তু এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কে? অনেকের দাবি, অন্যান্য জেলাতে এত ওভারলোড গাড়ি চলে না। এখানে মহম্মদবাজার, নলহাটি, রামপুরহাট থেকে হাজার হাজার লরি বিভিন্ন রাস্তা ধরে যাতায়াত করছে। সেই কারণে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে। সিউড়িতে জাতীয় সড়কের ধারে বসবাসকারী রঘুবর সাহা বলেন, গোটা রাস্তাতেই গর্ত। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা বসে গিয়েছে। তাই বাইক চালানো মানে জীবন হাতে নিয়ে যাওয়া। আর গাড়ি চালকরা কী অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছে তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
পুলিসের সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচি আদৌ কোনও কাজে আসছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিস যান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে ঠিক কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটাও দেখার বিষয়। তবে এক বছরে পথ দুর্ঘটনায় এত জনের মৃত্যু চমকে দেওয়ার মতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মৃত্যুর মিছিল আগামী দিনে কমবে কিনা এখন সেটাই দেখার।



