Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় আবাসের সমীক্ষার কাজ বাকি, সময়সীমা বাড়াল সরকার

জেলায় আবাসের সমীক্ষার কাজ বাকি, সময়সীমা বাড়াল সরকার
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আবাসের সমীক্ষার কাজ শেষ করতে সময়সীমা বাড়াল রাজ্য সরকার। আজ বৃহস্পতিবার, আবাসের সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ই নভেম্বর পর্যন্ত এই সমীক্ষা চলবে।‌ কারণ অধিকাংশ জেলাতেই এই সমীক্ষার কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়েছে। নদীয়া জেলায় এখনও পর্যন্ত সমীক্ষার কাজ ১১ শতাংশ বাকি রয়েছে। সেইসঙ্গে আগামী ২৮নভেম্বরের মধ্যে বাড়ি পাওয়ার যোগ্য প্রাপকদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। 
Advertisement
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৯নভেম্বর থেকে ৬ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই প্রাথমিক তালিকা বিডিও অফিস, জেলা ও মহকুমা শাসকের অফিসে টাঙাতে হবে। যাতে ‘সম্ভাব্য’ বাড়ি প্রাপককে নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের কাছে জানানো যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় তা যাচাই করবে প্রশাসন। তারপর ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রামসভা, ব্লকস্তরের কমিটি,  জেলাস্তরের কমিটি থেকে সেই তালিকার অনুমোদন দেওয়া হবে। ২৩ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়ি তৈরির টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।  
নদীয়ার জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ বলেন, জেলায় সমীক্ষার কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৪ শতাংশ আবেদনকারীকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১লক্ষ ৬০ হাজার আবেদনকারীর সমীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪৩ হাজার আবেদনকারীকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলায় জোরকদমে আবাসের সমীক্ষার কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে মাথার উপর ছাদ পেতে চলেছেন অনেকে। বিশেষ করে নদীপাড়ের বাসিন্দারা এর ফলে উপকৃত হবেন। কালীগঞ্জ ও নবদ্বীপ ব্লকে প্রতি বছর বন্যায় ভাগীরথীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে বহু কাঁচা বাড়ি ডুবে যায়। ফলে সেখানকার নদীপাড়ের বাসিন্দারা সমস্যা পড়েন। মাথার গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে উঠে আসতে হয় উঁচু জায়গায়। চোখের সামনে জলের স্রোতে ভেসে যেতে দেখেন কাঁচা বাড়ি। মাটির ঘরে থাকলেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার তাঁরা। তবে এবার তাঁদের স্বপ্নের ঘর তৈরি হচ্ছে রাজ্য সরকারের উদ্যোগেই। নদীয়া জেলার বেশকিছু নদীপাড়ের গ্রামে যোগ্য প্রাপকের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। যদিও সেই সমস্ত জায়গায় উপভোক্তাদের পুনরায় যাচাই করছেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য প্রাপক রয়েছেন কালীগঞ্জের রাজারামপুর ঘোড়াইক্ষেত্র পঞ্চায়েতে। শতকরা হিসেবে সেখানে ৯২.০৭ শতাংশ বাড়ির আবেদনকারীকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পঞ্চায়েতে ভাগীরথীর পাড়েই অবস্থান।‌‌ যার ফলে প্রতি বছর বর্ষায় সমস্যায় পড়তে হয় এখানকার মানুষদের। এর পাশাপাশি ভাগীরথীর তীরের গোবরা পঞ্চায়েতের নয়াচর এলাকাতেও আবেদনকারীদের অধিকাংশকেই যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিডিও অঞ্জন চৌধুরী বলেন, নদীপাড়ের যাঁরা বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন আমরা তা যাচাই করে দেখছি। মানদণ্ড অনুযায়ী যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই তাঁরা ঘর পাবেন। একইভাবে নবদ্বীপ ব্লকের নদীপাড়ের ফকিরডাঙা পঞ্চায়েত ৯১.১৪ শতাংশ আবেদনকারী বাড়ি পাওয়ার ‘পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর পাশাপাশি করিমপুর-২ ব্লকের নতিডাঙা পঞ্চায়েতের ৯০.৮৪ শতাংশ, চাপড়া ব্লকের হাটখোলা পঞ্চায়েতের ৮৯.০৬ শতাংশ, মহেশপুর পঞ্চায়েতের ৮৯.০১ শতাংশ, করিমপুর-২ ব্লকের নারায়ণপুর-২ পঞ্চায়েতের ৮৮.৮৫ শতাংশ যোগ্য আবেদনকারী পাওয়া গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ