Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জিন্নারের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের নামেও তোলাবাজির অভিযোগ

কেবলমাত্র ইডি নয়, সিবিআইয়ের নাম করেও তোলাবাজি চালাত শেখ জিন্নার আলি ও তার এক সঙ্গী। বাঁকুড়ার এক বালি ব্যবসায়ীকে জানায়, তাঁর ব্যবসার হিসেবে নানা গণ্ডগোল আছে।

জিন্নারের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের নামেও তোলাবাজির অভিযোগ
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: কেবলমাত্র ইডি নয়, সিবিআইয়ের নাম করেও তোলাবাজি চালাত শেখ জিন্নার আলি ও তার এক সঙ্গী। বাঁকুড়ার এক বালি ব্যবসায়ীকে জানায়, তাঁর ব্যবসার হিসেবে নানা গণ্ডগোল আছে। তারজন্য ইডি এবং সিবিআই অফিসে রেড করবে বলে হুমকি দেয়। তার দাবিমতো টাকা না দিলে সিবিআই এবং ইডি সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করবে বলে হুমকি দিত সে। ২০২৩ সাল থেকে সে ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে তোলাবাজি চালিয়েছে। 

Advertisement

নিজেকে ইডি অফিসার পরিচয় দিয়ে জিন্নার ওই বালি ব্যবসায়ীকে বেশ কয়েকবার বিধাননগর কমিশনারেট ও সল্টলেক স্টেডিয়ামের কাছে ডেকে পাঠায়। সেখানেই ব্যবসায়ীকে নানাভাবে ভয় দেখায় সে। বিধাননগর কমিশনারেটের অফিসের সামনেই সে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা নগদে নেয়। বাকি ২০ লক্ষ টাকা তার কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বলে ব্যবসায়ীকে। সেইমতো চার দফায় ৫ লক্ষ টাকা করে জিন্নারের দেওয়া কোম্পানির অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা জমা করেন ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু, জিন্নারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছিল। আরও টাকা আদায়ের জন্য সে বালি ব্যবসায়ীকে নানাভাবে শাসাচ্ছিল। কখনও ইডির তল্লাশির ভয় দেখিয়ে, আবার কখনও সিবিআইয়ের নাম করে ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করছিল সে। ওই ব্যবসায়ী জিন্নারকে আর টাকা দিতে রাজি হননি। সে জন্য তাঁকে নানাভাবে ভয় দেখায় জিন্নার। এমনকী, ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ভয়ও দেখায় সে। 
পুলিস জানতে পেরেছে, টাকা আদায়ের সময় বিধাননগর কমিশনারেটের অফিসে ইডি লেখা গাড়ি চেপে আসত জিন্নার ও তার সঙ্গী। সে কারণে ইডি অফিসার ভেবে ব্যবসায়ী তাকে টাকা দেন। পরে জিন্নারের কথাবার্তা এবং আচার-আচরণে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপরই তিনি গত ১৮ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় জিন্নার ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে বিধাননগর থানা একটি পৃথক মামলা রুজু করেছে। জিন্নারের প্রতারণামূলক কাজকর্মের নেটওয়ার্কের বিষয়ে পুরোপুরি তদন্ত করে দেখার জন্য পুলিসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। 
বিধাননগর দক্ষিণ থানায় কেস রুজু হওয়ার পর বিষয়টি ইডির নজরে আসে। দিনকয়েক আগে ইডি তার কলকাতা, রায়নার খেমতা গ্রামের বাড়ি সহ পাঁচ জায়গায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে তল্লাশিতে জিন্নারের কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ৪০ লক্ষাধিক টাকা ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়াও দু’টি গাড়ি, জমির বেশকিছু কাগজপত্র এবং অশোক স্তম্ভ দেওয়া প্যাড ও জিন্নারের সচিত্র পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
তবে এর আগেও জিন্না নানাভাবে লোক ঠকিয়েছে। সাংবাদিক পরিচয়ে খণ্ডঘোষ থানা এলাকার এক নকল কয়েন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে টাকা আদায় করতে যায়। খুব অল্প টাকা ওই নকল কয়েন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সে কেড়ে নেয়। এনিয়ে জেলার পুলিস সুপারের কাছে অভিযোগও জমা পড়ে। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ