সংবাদদাতা, লালবাগ: নদী পারাপারে ভাড়া বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ যাত্রীসুরক্ষার কোনও বালাই নেই। জিয়াগঞ্জের ফেরিঘাটগুলিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে চলছে ঝুঁকির পারাপার। যাত্রীদের অভিযোগ, নৌকায় নদী পারাপারের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এব্যাপারে পরিবহণ দপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। অথচ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং গা-ছাড়া মনোভাবের কারণেই যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করেন না। পারাপারের সময় লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এবিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের সাফাই, মিনিট কয়েকের জন্য যাত্রীরা জ্যাকেট পড়তে রাজি হন না। তবে অবশ্য পারাপারের সময় যাত্রী সুরক্ষায় বিকল্প হিসেবে নৌকায় লাইফ বয়া রাখা থাকে।
জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, নদী পারাপারের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা অবশ্যই দরকার। এই বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষকে যাত্রীদের বোঝাতে হবে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।
জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার বুক চিরে ভাগীরথী বয়ে গিয়েছে। ভাগীরথীর পূর্বপাড়ে রয়েছে জিয়াগঞ্জ এবং পশ্চিমপাড়ে আজিমগঞ্জ শহর। দুই শহরের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি পরিষেবা। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ বোটম্যান ফেরিঘাট কো-অপারেটিভ ট্রান্সপোর্ট সোসাইটি লিমিটেডের অধীনে দুই পাড়ে রয়েছে মোট ছ’টি ফেরিঘাট। তারজন্য মোট ১৩টি নৌকা রয়েছে। জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জ দুই শহরের সদর ফেরিঘাটের মধ্যে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা যাত্রী পরিষেবা চালু রয়েছে। ভাগীরথীর দু’পাড়ে অবস্থিত এই দুই শহরে রয়েছে পূর্বরেলের দু’টি রেলপথ। জিয়াগঞ্জ শহরের উপর দিয়ে গিয়েছে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার রেলপথ। আজিমগঞ্জের উপর দিয়ে গিয়েছে হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখার রেলপথ। ভোরের আলো ঠিকমতো ফোটার আগেই শুরু হয়ে যায় যাতায়াত। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও ব্যবসার কাজে দুই পাড়ের মানুষ নদী পারাপার করে। ফেরিঘাটগুলি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই একপ্রকার জীবন হাতে নিয়ে ঝুঁকির পারাপার করে।
জিয়াগঞ্জ শহরের বাসিন্দা দেবাশিস পাল বলেন, লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নদী পারাপারে যাত্রীদের বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপারেও ঝুঁকি রয়েছে। অপর বাসিন্দা নিরঞ্জন হালদার বলেন, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি চালানো দরকার। নির্দেশ না মানলে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। আজিমগঞ্জের বাসিন্দা মিন্টু দাস বলেন, জোড়া নৌকায় শতাধিক যাত্রী থাকে। অথচ নৌকায় চার-পাঁচটি লাইফ জ্যাকেট ঝোলানো থাকে। সেগুলিও আবার রোদে-জলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে বিপদ হলে সেগুলি কাজ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সোসাইটির সম্পাদক রূপকুমার সরকার বলেন, যাত্রীদের জ্যাকেট ব্যবহার করার কথা বলা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যান। কড়াকড়ি করতে গেলে যাত্রীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়। একমাত্র প্রশাসনের পদক্ষেপেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। জেলা পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হবে।