Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইসিএলে চাকরির দেওয়ার নামে প্রতারণা, ধৃত ঝাড়খণ্ডের মহিলা

ইসিএলে মোটা মাইনের চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। প্রিয়াঙ্কা রায় নামে ওই মহিলার ঝাড়খণ্ডের বাড়ি ধানবাদের কুমারডুবি এলাকায়।

ইসিএলে চাকরির দেওয়ার নামে প্রতারণা, ধৃত ঝাড়খণ্ডের মহিলা
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ইসিএলে মোটা মাইনের চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। প্রিয়াঙ্কা রায় নামে ওই মহিলার ঝাড়খণ্ডের বাড়ি ধানবাদের কুমারডুবি এলাকায়। সোনামুখীর এক যুবককে কেন্দ্রীয় সংস্থায় চাকরি পাইয়ে দেবে বলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনটাই অভিযোগ। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে ইসিএলে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় আরও এক মহিলার খোঁজ চলছে। জানা গিয়েছে, প্রতারিত যুবকের বাড়ি সোনামুখী শহরেই। তিনি রাজ্যের বাইরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রিয়াঙ্কা তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়া। যুবককে ইসিএলে চাকরি দেওয়ার টোপ দেয়। সেই টোপ গিলে কোম্পানির কাজ ছেড়ে দেন তিনি। পরিবারের যাবতীয় সঞ্চিত অর্থ এবং ব্যাঙ্ক ঋণ করে ধাপে ধাপে মোট ২০ লক্ষ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা প্রিয়াঙ্কার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। প্রায় এক বছর কেটে গেলেও চাকরি হয়নি। শেষে টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই তিনি প্রিয়াঙ্কা সহ ঝাড়খণ্ডেরই অপর এক মহিলার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার কুমারডুবি থেকে প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে। 

Advertisement

সোনামুখী পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতারিত ওই যুবক বলেন, ‘আমি গত কয়েক বছর ধরে গুজরাত, হাওড়া সহ বিভিন্ন রাজ্যে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেছি। প্রিয়াঙ্কা আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়া। তাই তার কাছ থেকে ইসিএলের মতো বড় সংস্থায় চাকরি পাওয়ার আশ্বাস পেয়ে বিশ্বাস করেছিলাম। পরিবারের সঞ্চয় ভাঙিয়ে, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে এতগুলো টাকা দিয়েছি। কিন্তু তিনি ধানবাদের অন্য এক মহিলার সঙ্গে যোগসাজস করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।  ২০২৪ সালের জুন থেকে আগষ্ট— এই তিন মাসের মধ্যে পুরো টাকা ধাপে ধাপে প্রিয়াঙ্কার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছি। কিন্তু এতদিন কেটে গেলেও চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে ধানবাদ থেকে আমাকে এবং আমার বয়স্কা মাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি, পুনরায় টাকা ফেরত চাইতে এলে প্রাণে মারারও হুমকি দেওয়া হয়। আমি এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ব্যাঙ্ক ঋণ ও আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কিভাবে শোধ করব, তা খুঁজে পাচ্ছি না। তাই পুলিসের কাছে প্রতারকদের চরম শাস্তির আর্জি জানিয়েছি।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ