নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বড়দিন ও বর্ষবরণের উৎসবে ঝাড়গ্রামে পর্যটকদের ঢল নামবে। অধিকাংশ হোটেল, রিসর্ট, হোম-স্টে, লজ বুকিং হয়ে গিয়েছে। জঙ্গলমহল এলাকার নিজস্ব ভাপা, চিতই, নকশি পিঠের সঙ্গে লাল পিঁপড়ের চাটনির মতো খাবার পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অরণ্য শহরে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। বনপথে বা পাহাড়ী উপত্যকার দু’পাশে নানা ধরনের ফুল ফুটেছে। মরশুমি ফুল নতুন বছর আসার বার্তা দিচ্ছে। আদিবাসী গ্ৰামে এখন উৎসবের মেজাজ। বড়দিন ও বর্ষবরণের উৎসবের আয়োজনে জেলার হোটেল, রিসর্ট, লজ, হোম-স্টেগুলিতে এখন সাজসাজ রব। পর্যটকদের মনোরঞ্জন করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরা এনিয়ে বৈঠকও করেছেন। জেলার অফবিট জায়গাগুলিতে বেড়ানোর ব্যবস্থা, আদিবাসী গ্ৰামের উৎসব অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া জঙ্গলমলের নিজস্ব পিঠেপুলি, মাংস পিঠে, শাল-চিকেন সহ নানা ধরনের খাবার পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা হবে।
গত কয়েক বছর ধরে জেলার অরণ্য, পাহাড়, প্রাচীন রাজবাড়ির মতো পর্যটনস্থলের সঙ্গে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের লোকসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে আকর্ষণ বাড়ছে। চাহিদা থাকায় নতুন নতুন হোটেল, রিসর্ট, হোম-স্টে গড়ে উঠছে। চলতি বছর পুজোয় বহু পর্যটক জেলায় এসেছিলেন। এবার বড়দিন ও বর্ষবরণ উৎসবে বেলপাহাড়ী ছাড়াও চিল্কিগড় কনকদুর্গা মন্দির, রাজবাড়ি, নয়াগ্ৰামের জঙ্গল, গোপীবল্লভপুরের রামেশ্বর মন্দির, ঝাড়গ্রাম ব্লকের গুপ্তমণি মন্দির ও জুলজিক্যাল পার্কে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে মনে করা হচ্ছে। জুলজিক্যাল পার্ক কর্তৃপক্ষের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ২৫ডিসেম্বর ও ১, ৮ জানুয়ারি পার্ক খোলা থাকবে।
শীতের মরশুমে জেলার বাসিন্দাদের প্রিয় খাবার নানা ধরনের পিঠেপুলি। শাল পাতায় মোড়া মাংস পিঠে সবচেয়ে জনপ্রিয়। নতুন চালের গুঁড়ি, খেজুরের গুড় ও স্থানীয় মশলা দিয়ে এই পিঠে বানানো হয়। চালের গুঁড়ি ও নারকেল পুর দিয়ে নকশি পিঠে বানানো হয়। পিঠের উপর নানা ধরনের নকশা করে দেওয়া হয়। আরও নানা ধরনের পিঠে সমান জনপ্রিয়। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, বড়দিন ও বর্ষবরণ উৎসব উপলক্ষ্যে জেলার বেশিরভাগ হোটেল, রিসর্ট, লজ বুকিং করা হয়েছে। অফবিট জায়গায় পর্যটকদের থাকার আগ্ৰহ বেশি রয়েছে। সেরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এইসময় জেলায় নানা ধরনের পিঠে তৈরি করা হয়। পর্যটন ব্যবসায়ীদের জেলার নিজস্ব পিঠে তৈরির সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে যা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করছি।
নয়াগ্ৰামের পর্যটন ব্যবসায়ী প্রণব মাহাত বলেন, নয়াগ্ৰাম, গোপীবল্লভপুরে পর্যটনের পরিকাঠামো খুব একটা ভালো নয়। যাতায়াতের রাস্তাও খারাপ। প্রশাসন ও পর্যটন দপ্তর ব্যবস্থা নিক।