Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেনড্রাইট বা ড্যান্ডির নেশায় বুঁদ ঝাড়গ্রামের স্কুল পড়ুয়ারা

আইনের কোনও নির্দেশ নেই। ডেনড্রাইট জাতীয় পদার্থ থেকে নেশা করলে  পুলিশ-প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে পারে না। ফলে ঝাড়গ্রামে অবাধে ডেনড্রাইট বিক্রি হচ্ছে।

ডেনড্রাইট বা ড্যান্ডির নেশায় বুঁদ ঝাড়গ্রামের স্কুল পড়ুয়ারা
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: আইনের কোনও নির্দেশ নেই। ডেনড্রাইট জাতীয় পদার্থ থেকে নেশা করলে  পুলিশ-প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে পারে না। ফলে ঝাড়গ্রামে অবাধে ডেনড্রাইট বিক্রি হচ্ছে। স্কুলের পড়ুয়ারা ডেনড্রাইট বা ড্যান্ডি নেশায় বুঁদ হচ্ছে। জেলার নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরে অভিযোগের পাহাড় জমছে। পরিস্থিতি সামলাতে জেলায়  মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জেলা নারী ও শিশু সুরক্ষা দপ্তররের আধিকারিক রাজা দাস বলেন, জেলার স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে ডেনড্রাইটের নেশার প্রতি আসক্তি বাড়ছে। এই বিষয়ে বহু অভিযোগ আমাদের কাছে এখন আসছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। জেলায় মাদকসক্ত নিরাময় কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকলস্তরের মানুষকে এর মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।
ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে ড্যান্ডি নেশার প্রবণতা বাড়ছে। নেশায় আক্রান্ত পড়ুয়াদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নির্দিষ্ট অংশের যুব সমাজের মধ্যে সীমিত নেই। বাজারে  স্বল্পমূল্যের ডেনড্রাইট আঠা পাওয়া যায়। ডেনড্রাইট পড়ুয়াদের কাছে ড্যান্ডি নামে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  আঠার গন্ধ শুঁকে বা পলিথিনের প্যাকেটে গরম জলের মধ্যে আঠা মিশিয়ে তার ধোঁয়া নাক, মুখ দিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া  মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলিকে দুর্বল করে দেয়। গা-হাত-পা ঝিমঝিম করে। এই জাতীয় নেশায় প্রথম ক্ষতি হয় লিভার ও কিডনির। পরে হার্টের অসুখ দেখা দেয়। নেশার ফলে দেহের সতেজ কোষগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।  চিকিৎসকদের মতে  আসক্ত ব্যক্তির বিষক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। একবার আসক্ত হয়ে পড়লে এই নেশা ছাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ওষুধ সেবন ও মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে। এক শ্রেণির যুবকদের মধ্যে এই নেশা করার প্রবণতা এতদিন দেখা যেত। কিন্তু স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ড্যান্ডি নেশা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকরাই ভয়াবহ এই তথ্য তুলে ধরছেন। শিক্ষিত সমাজের বড় একটা অংশ ছেলেদের নেশায় আক্রান্ত হয়ে পড়ার কথা প্রকাশ্যে বলতে পারছেন না। সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গেলে বাইরে জানাজানির আশঙ্কা করছেন। বাধ্য হয়ে জেলার নারী ও শিশু সুরক্ষা দপ্তরে বিষয়টি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠেছে জেলা  পুলিশ আইনসম্মত ভাবে কোনও পদক্ষেপ নিতে না পারায়। জেলা পুলিশে এক আধিকারিক বলেন, আইনসম্মত ভাবেই এই আঠা বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে আমারা কোনও পদক্ষেপ করতে পারি না। ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতের আইনজীবী চন্দ্রেশ্বর সেনগুপ্ত বলেন, ডেনড্রাইট আঠায় জৈব দ্রাবক থাকে। যা দ্রুত উড়ে যায় না। দ্রাবকগুলোর গন্ধ থেকে আসক্তি তৈরি হয়। আইন করে এই জৈব দ্রাবক ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে। 
ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মনোচিকিৎসক নন্দলাল বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে অল্পবয়সিদের মধ্যে কৌতূহলী হয়ে অনেক নেশা করে। একবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লে ছাড়তে পারে না। বাবা মায়েরা যখন বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক সম্মানহানির ভয় পান। ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলিংও সমানভাবে জরুরি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ