সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: বিগত কয়েক বছর ধরে হাতির তাণ্ডবে দিশাহারা ঝাড়গ্রামের মানুষ। হাতির সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠান থেকে কি বার্তা দেন সে দিকেই তাকিয়ে আছে জেলাবাসী। অনেকেই বলছেন, মাওবাদী সন্ত্রস্ত পরিবেশের থেকেও হাতির তাণ্ডবে গ্রামীণ এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি, ফলের বাগান নষ্ট, ঘর ভাঙচুর এমনকী বিগত কয়েক বছরে হাতির হানায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হাতিরও মৃত্যু হচ্ছে।
মূলত জঙ্গলে খাবারের অভাবে থাকতে পারছে না হাতির দল। বিভিন্ন ডিভিশন এলাকার জঙ্গলে কয়েকদিন হাতির দল থাকার পর বনকর্মী ও হুলাপার্টি দিয়ে তাদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি এই এলিফ্যান্ট রিজার্ভ বাস্তবায়িত হাতি এই সমস্যা অনেকটাই দূর হতো। গত ১৮ জুলাই ঝাড়গ্রামের বাঁশতলায় জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় একটি শাবক সহ তিনটি হাতির মৃত্যু হয়। তার আগে গত বছরের ১৬ আগস্ট ঝাড়গ্রাম শহরের জেলাশাসকের অফিসের সামনে জ্বলন্ত হুলা বিদ্ধ হয়ে একটি গর্ভবতী হাতির মৃত্যু হয়। ঝাড়গ্রাম পুরসভা এলাকা বাদ দিলে জেলার ৭৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দারা জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকায় বসবাস করেন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় হাতির তাণ্ডব থেকে বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাতির তাণ্ডবে বর্ষাকালীন সব্জি চাষ ছেড়ে কাজুবাদামের গাছ লাগানোর উপর জোর দিয়েছেন অনেকে। এনিয়ে জামবনী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ঝাড়গ্রামের গ্রামীণ এলাকার মানুষ হাতির আতঙ্কে রাত হলেই গৃহবন্দি হয়ে পড়ি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যদি ময়ূরঝর্ণা এলিফ্যান্ট রিজার্ভ বাস্তবায়ন করেন তাহলে এলাকাবাসী শান্তিতে ঘুমোতে পারবেন। তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি প্রসূন সড়ঙ্গী বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। স্বাভাবিকভাবেই যে কোনও সমস্যা তাঁর চোখের সামনে এলেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার সমাধান করেন। হাতির সমস্যাও সম্পূর্ণভাবে তিনি সমাধান করবেন। আমারা এই আশাই রাখি।