Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিতৃপক্ষে শুরু ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গাপুজো, রীতি মেনে দেওয়া হয় ১০৮ পদ্ম ও কালো থান

দেবীপক্ষের অপেক্ষা নয়। পিতৃপক্ষেই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠে। নিশিরাতে হতো সপ্তমী ও দশমীর পুজো।

পিতৃপক্ষে শুরু ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির দুর্গাপুজো, রীতি মেনে দেওয়া হয় ১০৮ পদ্ম ও কালো থান
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: দেবীপক্ষের অপেক্ষা নয়। পিতৃপক্ষেই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি দুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠে। নিশিরাতে হতো সপ্তমী ও দশমীর পুজো। ১৫ দিন আগে থেকে সাবিত্রী মন্দিরে পটেশ্বরী রণচণ্ডীর চণ্ডীপাঠ শুরু হয়ে যেত। তবে, বিংশ শতকের চল্লিশের দশক থেকে প্রথায় বদল আনা হয়। যদিও আজও রামচন্দ্রের পুজোর রীতি মেনে দেবী আরাধনায় ১০৮ পদ্ম ও কালো কাপড়ের থান দেওয়া হয়। রাজবাড়ি থেকে কিছটা দূরেই কুলদেবী  সাবিত্রীর মন্দির। সেখানে রয়েছে কুলদেবীর বিগ্রহ। ওই মন্দির চত্বরে পৃথক চণ্ডীমণ্ডপে দুর্গা পুজোর অয়োজন হয়। একসময় শালপাতার ঝালরে আঁকা পটে দেবীর আরাধনা করা হত। বর্তমানে সেই প্রথার পরিবর্তে চণ্ডীমণ্ডপের দেওয়ালে আঁকা পটেই পুজো হয়। রীতি মেনে আজও, কৃষ্ণপক্ষের জীতাষ্টমী তিথির রাতে বেলগাছের নীচে মঙ্গলঘট স্থাপন হয়। রাজবাড়ির কুলপুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পুজোর সূচনা করেন। বেলগাছের পাশে হলুদ কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় স্থাপন করা হয় নবপত্রিকা। পুজোর উপাচারে রাখা হয় দূর্বাঘাস, ঘি, চন্দন, সোনা ও রূপোর খণ্ডাংশ। পুজো শেষে মঙ্গলঘট চণ্ডীমণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথা মেনে রাজবাড়ির এক সদস্য পারিবারিক অস্ত্র নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। এরপরই প্রথা ও রীতি অনুযায়ী চণ্ডীপাঠ শুরু হয়। 

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সর্বেশ্বর মল্লদেব। স্থানীয় মালরাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন‌। সেই রাজ্যাভিষেকের দিনটিকে স্মরণীয় রাখতে শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে শুরু হয় ইন্দ্রাভিষেক অনুষ্ঠান। প্রথা অনুযায়ী, মণ্ডপে টানা ১৫ দিন ধরে পুজো, হোম ও চণ্ডীপাঠ হয়। সপ্তমীর দিন সকালে রাজ বাড়ির মন্দির থেকে শালগ্ৰাম নারায়ণী শিলা সাবিত্রী মন্দিরে আনা হয়। প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, দেবী দুর্গার সঙ্গে মল্লদেবের সাক্ষাৎ নিয়ে নানা কাহিনি। ওই পরিবারের সদস্য বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, সাবিত্রী মন্দিরের সামনে খড়ের চালা ঘরে পুজোর চারদিন পটে দেবীর পুজো হতো। পনেরো দিন আগে থেকে নিশিরাতে চণ্ডীপুজোর সূচনা হতো শত্রুপক্ষকে জয় ও পরিবারের শিশুর নবীন চণ্ডীপাঠ করার রীতি আজও বহাল রয়েছে। রামচন্দ্র যেভাবে দেবীর আরাধনা করেছিলেন সেই প্রথা মেনে রণচণ্ডীকে পদ্মফুল ও কালো কাপড়ের থান দেওয়ার রীতির বদল হয়নি। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজবাড়ির রাধারমনজিউর মন্দিরে নেপাল গন্ডকী নদী থেকে আনা নারায়ণী শালগ্ৰাম শিলার নিত্যপুজো হয়। সপ্তমীর পুজোর দিন সকালে শোভাযাত্রা করে শালগ্ৰাম শিলা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। আরও বলেন, ‘শতপথ ব্রাহ্মণে’ গন্ডকী নদীকে ‘সদানীরা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যে নদীর জল কখনো শুকিয়ে যায় না। একসময় হিন্দুরাজ পরিবারগুলির মন্দিরে এই নদীর শালগ্ৰাম শিলা নারায়ণ রূপে পুজোর রীতি ছিল। হাজার বছর ধরে চলে আসা প্রাচীন ঐতিহ্য ঝাড়গ্রাম রাজ বাড়িতে আজও অটুট। পুজোতে রণচণ্ডীর সামনে শালগ্ৰাম শিলাকে রেখে এখনও পুজো করা হয়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ