নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃত্যুতে প্রশ্ন তুলেছন বাড়ির লোকজন। শুক্রবার ভোরে ঝাড়গ্রামে মেডিক্যালে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মকর হাঁসদা(৫০)। তাঁর বাড়ি নয়াগ্রামের ধুমসাই গ্ৰামে। প্রসঙ্গত, চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগে ১০মার্চ সোমবার রাতে পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে তাঁকে ঝাড়গ্রাম সংশোধনা নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যালে চিকিৎসা করানো হয়। ওইদিন সন্ধ্যের ফের অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তিও পান। কিন্তু, শুক্রবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঝাড়গ্রাম জেলা বিশেষ সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট রাজেশকুমার মণ্ডল বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে মকর হাঁসদাকে সংশোধনগারে আনা হয়। বুধবার সকালে ওই বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সংশোধনগারে ফিরিয়ে আনা হয়। সন্ধ্যের পর অবস্থার অবনতি হলে ফের তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বন্দি আদালতের নির্দেশে জামিন পায়। আদালতের কপি হাতে পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রিলিজের কপি থানা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপির কাছে পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে জেনারেল বেডে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। পরবর্তী ঘটনা কী ঘটেছে সেটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় ওই ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। গভীর রাতে শহরের রাস্তায় পড়ে থাকতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। মৃতের ছেলে লালমোহন হাঁসদা বলেন, গত সোমবার রাতে বাবাকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম আদালতে বাবার জামিন হয়। তখন জানতে পারি, বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছে। শুক্রবার সকালে বাবার মৃত্যুর খবর পাই। হাসপাতালে ভর্তি খবর ঝাড়গ্রাম সংশোধনগারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। জেল কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের গাফিলতিতেই বাবার মৃত্যু হয়েছে।