নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে গুপ্তমণি মন্দিরে দেবী দুর্গা শবরদের হাতে পূজিত হন। দেবীকে ঘিরে নানা জনশ্রুতি ছড়িয়ে আছে। সংস্কারের অভাবে মন্দিরটি জরাজীর্ণ দশায় পরিণত হয়েছিল। রাজ্য সরকার ২০২০ সালে মন্দির সংস্কারের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। মন্দিরে গর্ভগৃহের কোনও পরিবর্তন না করার দাবিকে ঘিরে সংস্কারের কাজ থমকে যায়। এবার দাবি মেনে মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলাজুড়ে প্রাচীন মন্দিরগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২০ সালে গুপ্তমণি মন্দির সংস্কারের জন্য ১ কোটি টাকার ঘোষণা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল। মন্দির চত্বরে দর্শনার্থীদের জন্য থাকার জায়গা, ভোগঘর, মন্দিরের জলনিকাশি ব্যবস্থার জন্য ড্রেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মন্দির চত্বরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্দির সংস্কারের কাজ নিয়ে প্রথমে বিরোধ বাধে। মন্দির কমিটিতে জমিদাতা ও পূজারীদের একাংশকে রাখা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। জট কাটাতে প্রশাসনের তরফে দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়। মন্দিরের গর্ভগৃহের পরিবর্তন করা যাবে না বলে পুরোহিতরা দাবি তোলায় নতুন করে টানাপোড়েনে শুরু হয়। মন্দির সংস্কারের কাজ ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা ছিল। সব জট কাটিয়ে মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
মন্দিরের পুরোহিত দীপু ভক্ত বলেন, এই মন্দিরটি একশো বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়নি। ছাদ দিয়ে চুঁইয়ে জল পড়ে। দেয়ালগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মন্দির সংস্কার করার কাজ নানা জটিলতায় থমকে যাচ্ছিল। আমরা দাবি করেছিলাম, মন্দিরের গর্ভগৃহের কোনও পরিবর্তন না করে সংস্কার করতে হবে। প্রশাসন সেই দাবি মেনে কাজ শুরু করায় আমরা খুশি। স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ রানা বলেন, গুপ্তমণি কারও কাছে দেবী দুর্গা, কারও কাছে বনদেবী রূপে পূজিত হন। ঝাড়গ্রাম ব্লকের শুকনিবাসা মৌজায় মন্দিরটি রয়েছে। লোকশ্রুতি আছে, স্থানীয় শবর সম্প্রদায়ের নন্দ ভক্ত স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই এলাকায় দেবীর পুজো শুরু করেছিলেন। তাঁর বংশধররা গুপ্তমণির পুজো করেন। শনি ও রবিবার ভক্তদের ভিড় বেশি হয়। মন্দির সংস্কার হলে ভক্তদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ভিড় বাড়বে।
ঝাড়গ্ৰাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, মন্দির সংস্কার কাজ নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সেই জটিলতা কেটেছে। মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কারের জন্য ৯৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৭৮৪ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।