সংবাদদাতা, বসিরহাট: সন্দেশখালির রায়মঙ্গল নদীপাড়ের আতাপুর খেয়াঘাটের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কংক্রিটের জেটিঘাটের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ জরাজীর্ণ খেয়া ঘাটটি সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠছে। তবুও এই খেয়াঘাট দিয়েই রোজ কয়েক হাজার যাত্রী নদী পারাপার করেন। শুধুমাত্র কয়েকটি ইট ও পিলারের উপর দিয়ে একপ্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠতে হয় যাত্রীদের। এছাড়া বাইক ও সাইকেল নিয়ে পারাপারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের।
জানা গিয়েছে, খেয়াঘাটে কোনও আলোর ব্যবস্থা নেই। তাই সন্ধ্যার পর থেকে খেয়াঘাট ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে ওঠে। এছাড়া সন্দেশখালি ২ ব্লকের একমাত্র হাসপাতাল সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতাল খুলনায় অবস্থিত। তাই আতাপুর থেকে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় রোগীর আত্মীয়দের। এই খেয়াঘাটের দীর্ঘদিনের মাঝি রাধেশ্যাম দাসের অভিযোগ, নতুন জেটির দাবি নিয়ে বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। কিন্তু যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই বিষয়ে নিত্যযাত্রীরা বলেন, এই খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার করতে ভয় লাগে তাঁদের। পূর্ণিমার মরা কোটালে জল নীচে নেমে গেলে জেটির প্রায় শেষ প্রান্তে গিয়ে নৌকায় উঠতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য প্রশাসনের কাছে নতুন জেটিঘাট তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন, জেটি নিয়ে ভোটের সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান রাজনীতির নেতারা। কিন্তু ভোট হয়ে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি আর পূরণ করেন না। দীর্ঘদিন ধরেই এই খেয়াঘাটে যাত্রীদের তীব্র সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তা দেখেও প্রশাসন উদাসীন। আমরা চাই দ্রুত এখানে নতুন জেটি তৈরি করা হোক। এই বিষয়ে সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যাতে এই খেয়াঘাটটি নতুনভাবে তৈরি করা যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। নিজস্ব চিত্র