নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে। সামনেই গ্রীষ্ম। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, এবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বর্ষায় জলবন্দি পরিস্থিতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নিতে তৎপর শান্তিপুর পুরসভা। শহরের মাটির তলায় থাকা ও ঢাকনাযুক্ত নিকাশি নালাগুলি সাফাইয়ে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক জেটিং মেশিন। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির শেষেই কাজে নামবে এই মেশিন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর শহরের ২৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বহু এলাকায় এখনও খোলা নিকাশি নালা রয়েছে। সেগুলি সাফাইকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত পরিষ্কার সম্ভব হয়। কিন্তু কয়েক মাস আগে শহরের একাধিক এলাকায় তৈরি হয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড নিকাশি নালা ও ঢাকনাযুক্ত হাইড্রেন। এগুলি পরিষ্কার করতে গিয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষকে। মাটির নীচে থাকা এই নালাগুলি দৈর্ঘে প্রায় ১১ কিলোমিটার। এত দীর্ঘ অংশে সাফাইকাজ চালাতে আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করছে পুরসভা। সেই প্রেক্ষিতেই প্রায় ৩৯ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে জেটিং মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টায়েড ফান্ডের টাকায় মেশিন কেনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়েছে। বুধবার একটি মেশিন এনে ট্রায়ালও দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণের পর সেটি ছাড়পত্র পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ।শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, নিকাশি নালাগুলি তৈরি হওয়ার পর সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা বড় চ্যালেঞ্জ। খোলা ড্রেন লোকবল দিয়ে সাফ করা যায়, কিন্তু ঢাকনাযুক্ত আন্ডারগ্রাউন্ড নালার ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাই বর্ষার আগেই স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব শীঘ্রই জেটিং মেশিন ব্যবহার করে শহরজুড়ে সাফাইয়ের কাজ শুরু হবে।এদিকে, পুরসভার এই পদক্ষেপে বর্ষায় জল জমার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলেই আশাবাদী শহরবাসী। যদিও প্রযুক্তি থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। -নিজস্ব চিত্র