Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

জেলিফিশের মস্তিষ্ক নেই!

বীজগণিতের সূত্র হোক বা ইতিহাসের সাল-তারিখ মস্তিষ্ক ব্যতীত এতকিছু মনে রাখা সম্ভব?

জেলিফিশের মস্তিষ্ক নেই!
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমুদ্রের বিস্ময় জেলিফিশ! এই প্রাণীটির মস্তিষ্ক নেই। অথচ, নিখুঁতভাবে শিকার ধরা থেকে চলাফেরা— সব কাজ করে তারা। কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে জেলিফিশ, জানালেন শান্তনু দত্ত।

Advertisement

 

 

বীজগণিতের সূত্র হোক বা ইতিহাসের সাল-তারিখ মস্তিষ্ক ব্যতীত এতকিছু মনে রাখা সম্ভব? শুধু কি পড়াশোনা! হাঁটা-চলা, দৈনন্দিন কাজ থেকে গায়ে মশা বসলে ইঙ্গিত দেওয়া, এমনকী ঘুমের সময়ও মস্তিষ্কের বিশ্রাম নেই। ধর, কোনও প্রাণীর যদি ব্রেনই না থাকে, তাহলে? সেক্ষেত্রেও কি প্রাণীটি বহাল তবিয়তে থাকবে? এমনই এক প্রাণী জেলিফিশ। জলের তলায় মস্তিষ্ক ছাড়াই দিনের পর দিন বেঁচে থাকে তারা। কীভাবে? চল ছোট্ট বন্ধুরা, জেনে নিই। 
সমুদ্রের তলায় রয়েছে এক রহস্যময় জগৎ। সেখানে জানা অজানা নানা প্রাণীর বাস। তবে যে প্রাণীগুলি সবচেয়ে বেশি বিস্ময় জাগায়, জেলিফিশ তাদের মধ্যে অন্যতম। স্বচ্ছ, জেলির মতো শরীর। কিছু প্রজাতির জেলিফিশের শরীর থেকে আলো বেরয়। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা দিক হল এদের মস্তিষ্ক নেই। হ্যাঁ, ঠিকই। আমরা যাকে প্রাণীদের চিন্তা-ভাবনা বা কাজকর্মের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিনি, জেলিফিশের দেহে তেমন কোনও অঙ্গই নেই। তারপরও তারা বেঁচে থাকে, নড়ে-চড়ে বেড়ায়, শিকার ধরে, বিপদ এড়ায়। কীভাবে? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাদের অসাধারণ শরীর কাঠামো এবং বিবর্তনের ইতিহাসে। জেলিফিশ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন প্রাণী। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ৫০ কোটিরও বেশি বছর ধরে সমুদ্রে টিকে রয়েছে তারা। জেলিফিশের শরীরে রয়েছে একটি স্নায়ুতন্ত্র। একে বলে নার্ভ নেট বা স্নায়ুর জাল। কোনও নির্দিষ্ট অংশে এই স্নায়ুতন্ত্র নেই। বরং পুরো শরীরজুড়ে তা ছড়িয়ে রয়েছে। জেলিফিশ যখন কোনও কিছু স্পর্শ করে বা কোনও দিক থেকে আলো বা জলের স্রোত এলে এই জাল দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। এর মাধ্যমে জেলিফিশ টেন্টাকল নাড়ায়, সাঁতার কাটতে পারে। শিকার ধরতে পারে বা বিপদ বুঝে দিক পরিবর্তন করতে পারে। 
নিশ্চয়ই ভাবছ, টেন্টাকল কী? এটি জেলিফিশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। লম্বা, সূক্ষ্ম বাহুগুলিকে বলে টেন্টাকল। এর মধ্যেই থাকে অসংখ্য কোষ। শিকার কাছে এলে টেন্টাকল স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে একধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে শিকার শক্তি হারায়। আশ্চর্যের বিষয়, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোথাও মস্তিষ্কের নির্দেশ প্রয়োজন হয় না। সবকিছু চলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে, স্নায়ুর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। জেলিফিশের দেহের গঠনও খুব সরল। প্রধানত জল আর জেলির মতো পদার্থ দিয়ে তৈরি। এদের শরীরে কোনও হাড় নেই, রক্ত নেই, এমনকী হৃৎপিণ্ডও নেই। এই সরল গঠন তাদের শক্তির প্রয়োজন কমিয়ে দেয়, ফলে তারা বড়, জটিল কোনও অঙ্গ ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। স্রোতের সঙ্গে ভেসে চলাই তাদের জীবনযাত্রা। 
মস্তিষ্ক নেই, তাহলে কি জেলিফিশ বোকা? একদম না। আসলে জেলিফিশ প্রমাণ করেছে, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই যেকোনও প্রাণীর বেঁচে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি। চাঁদের আলো উপলব্ধি করা, জলস্রোত বোঝা, শিকার খোঁজা— সবই তারা নার্ভ নেটের সাহায্যে করতে পারে। বহু বিজ্ঞানী এখনও জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে জেলিফিশের শরীরের কিছু রাসায়নিক উপাদান কাজে লাগানোর জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। প্রকৃতি কখনও কখনও খুব অল্প কিছু দিয়েই অসাধারণ কিছু তৈরি করতে পারে। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ জেলিফিশ ছাড়া আর কী হতে পারে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ