সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাট করে দেওয়া ও লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (জেডিএ) সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থসারথি দাসকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। দীর্ঘদিন গা ঢাকা দেওয়ার পর বুধবার রাতে জয়গাঁ থানায় আত্মসমর্পণ করেন জেডিএ’র ওই সহকারী বাস্তুকার। তারপরেই পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ফাইল লোপাট ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওই বাস্তুকারের বিরুদ্ধে জয়গাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জেডিএ’র চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। অভিযোগ জমা পড়ার খবর টের পেতেই পার্থসারথি আত্মগোপন করেন। আদালতে আগাম জামিনের চেষ্টাও করেছিলেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে পার্থসারথির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তারপরেই উপায় না দেখে বুধবার রাতে পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জয়গাঁ-১, ২ ও দলসিংপাড়া এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত জেডিএ। সংশ্লিষ্ট সংস্থা সূত্রেই জানা গিয়েছে, জেডিএভুক্ত এলাকায় একটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ না করিয়েই ওই সহকারী বাস্তুকার এক ঠিকাদারকে ৩৫ লক্ষ টাকা পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই কাজের ফাইলও রাতারাতি লোপাট করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পার্থসারথির বিরুদ্ধে। গুরুতর এই অনিয়ম নজরে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেন জেডিএ বোর্ডের সদস্যরা। বোর্ড মিটিংয়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয় আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনকেও। তারপরই জেডিএ’র চেয়ারম্যান এই আর্থিক দুর্নীতি ও ফাইল লোপাটের অভিযোগে সহকারী বাস্তুকারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কালবিলম্ব না করে প্রশাসন ওই বাস্তুকারকে বরখাস্ত করে। জেডিএ’র চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার বলেন,আমরা দুর্নীতিকে যে প্রশ্রয় দিই না,এই ঘটনা তারই প্রমাণ। সাফ কথা দুর্নীতি করলে কেউ পার পাবে না। পুলিস ওই বাস্তুকারকে গ্রেপ্তার করেছে। তারাই বিষয়টি দেখছে।



