Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিল্লি বিস্ফোরণের জের কড়া নজরে জঙ্গলমহল, স্নিফার ডগ নিয়ে বাঁকু‌ড়া স্টেশনে তল্লাশি

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর জঙ্গলমহলে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে।

দিল্লি বিস্ফোরণের জের কড়া নজরে জঙ্গলমহল, স্নিফার ডগ নিয়ে বাঁকু‌ড়া স্টেশনে তল্লাশি
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর জঙ্গলমহলে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে বাঁকুড়ার একদা মাও অধ্যু঩ষিত এলাকায় গোয়েন্দারা নজরদারি জারি রেখেছেন। জেলা পুলিশের তরফে বাঁকুড়ার বাস স্ট্যান্ড, গুরুত্বপূর্ণ ভবন, পর্যটন কেন্দ্র ও জনবহুল এলাকায় নজর রাখা হচ্ছে। নিয়মিত পুলিশি টহলও জারি রয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি আরপিএফ ও জিআরপিও রেলের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। রেল পুলিশের তরফে বাঁকুড়া স্টেশনে স্নিফার ডগ ও মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে দফায় দফায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক কিছু নজরে পড়লেই তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, দিল্লি বিস্ফোরণের পর চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাঁকুড়া সদর সহ জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জনবহুল জায়গাগুলিতে সাদা পোশাকের পুলিশ নজর রাখছে। জেলার মাটিকে ব্যবহার করে কেউ যাতে নাশকতামূলক কোনও কাজ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সজাগ। কারও গতিবিধি বা আচরণ সন্দেজনক মনে হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য জেলাবাসীকে অনুরোধ করা হচ্ছে। বাঁকুড়া আরপিএফের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তপনকুমার রায় বলেন, যাত্রীদের সতর্ক করার পাশাপাশি ট্রেনের চালক সহ অন্যান্য রেলকর্মীদের সঙ্গেও আমরা সমন্বয় বৃদ্ধি করছি। মালিকানাহীন কোনও বস্তুর সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য সকলকে বলা হচ্ছে। রেল লাইন, প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক কিছু পড়ে থাকলে দ্রুত আরপিএফকে জানানোর জন্য বলা হচ্ছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর একসময়ে মাওবাদীদের আঁতুড়ঘর ছিল। এ জেলার জঙ্গলমহলে একাধিক নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে মাও সন্ত্রাস অতীত। জঙ্গলমহল এখন আগের তুলনায় অনেক শান্ত। তবে দিল্লি বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও আরপিএফ ঝুঁকি নিতে চাইছে না। রাজ্য সরকার ও রেলের তরফে নিচুতলার আধিকারিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। রেল বরাবর নাশকতামূলক কাজকর্মের ক্ষেত্রে ‘সফট্‌ টার্গেট’ হয়ে থাকে। ফলে রেলের সুরক্ষায় বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া রেল স্টেশন থেকে একাধিক শাখা বিভিন্ন দিকে চলে গিয়েছে। ফলে বাঁকুড়া আরপিএফকে সবদিকে নজর রাখতে হয়। ওই স্টেশন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন। ফলে কোনও কারণে বাঁকুড়ায় অঘটন ঘটলে জঙ্গলমহলে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে বাড়তি নজরদারি জারি রয়েছে। 
জেলা পুলিশের তরফে সর্বত্র নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাঁকুড়া শহরের গোবিন্দনগর বাস স্ট্যান্ড ও সংলগ্ন রাস্তা হয়ে প্রচুর সরকারি, বেসরকারি বাস চলাচল করে। বহু ছোট গাড়িও ওই এলাকায় থাকে। ফলে যাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। ফলে পুলিশ ওই এলাকায় বিশেষ নজর রাখছে। বিষ্ণুপুর, সোনামুখী, খাতড়া, বড়জোড়া সহ অন্যান্য জনবহুল এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাসের পাশাপাশি ছোট গাড়ি ও পণ্যাবাহী যানবাহনও চেকিং 
করা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।    রেল পুলিশের চেকিং বাঁকুড়া স্টেশনে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ