Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টালিগঞ্জের জানা পরিবার জগন্নাথমন্দিরে এক কোটিতম পুণ্যার্থী, মাইলফলক ছুঁয়ে উদযাপন

আট মাসের মধ্যেই প্রায় এক কোটি ভক্ত দীঘার জগন্নাথ মন্দির এসেছেন। এবার এক কোটি সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলল মন্দিরে আসা ভক্তসংখ্যা।

টালিগঞ্জের জানা পরিবার জগন্নাথমন্দিরে এক কোটিতম পুণ্যার্থী, মাইলফলক ছুঁয়ে উদযাপন
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আট মাসের মধ্যেই প্রায় এক কোটি ভক্ত দীঘার জগন্নাথ মন্দির এসেছেন। এবার এক কোটি সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলল মন্দিরে আসা ভক্তসংখ্যা। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, পূর্ব ভারতের আধ্যাত্মিক পর্যটনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল দীঘার জগন্নাথ মন্দির। রবিবার ২৮ ডিসেম্বর মন্দিরে উপস্থিত হলেন এক কোটিতম পুণ্যার্থী বা দর্শনার্থী। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষ্যে এদিন মন্দিরে আগত এক শিশুকন্যাকে প্রতীকীভাবে এক কোটিতম দর্শনার্থী হিসেবে চিহ্নিত করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁর নাম কাকলি জানা। কলকাতার টালিগঞ্জের বাসিন্দা। বাবার নাম সুরজিৎ জানা। এই উপলক্ষ্যে তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

Advertisement

৩০ এপ্রিল ২০২৫-এ উদ্বোধনের একবছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সাফল্য দীঘাকে বিশ্বমানের মন্দিরক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের। দেশের সর্বত্র থেকে তো বটেই, ভারতের সীমানা পেরিয়েও অসংখ্য ভক্ত আজ দীঘায় ছুটে আসছেন। দীঘা আজ বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষত বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের ইসকনভুক্ত ভক্তদের উপস্থিতি দীঘায় এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আগত ভক্তদের জপ, কীর্তন ও জগন্নাথ সংস্কৃতিতে নিমগ্ন হতে দেখা যাচ্ছে।
মন্দির উদ্বোধনের পর দীঘার চেহারায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। মন্দির ঘিরে দীঘায় আসা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। হোটেল, লজ, পরিবহণ পরিষেবা, রেস্তোরাঁ, ফুল বিক্রেতা, কারুশিল্পী, পুরোহিত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এসবের মধ্যেই এক কোটি দর্শনার্থী ছুঁয়েছে জগন্নাথ মন্দির। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাকলি জানা ও পরিবারকে বিশেষ দর্শন, মহাপ্রসাদ, পুষ্পমালা ও প্রসাদ প্রদান করা হয়। কাকলি জানার পরিবারের কথায়, ‘আমরা ধন্য ও গর্বিত। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পারা আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। সত্যিই জগন্নাথদেবের কৃপা আমাদের উপর।’ 
অন্যদিকে, মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও অন্যতম ট্রাস্টি রাধারমণ দাস বলেন, ‘এক কোটিতম ভক্তের আগমন কেবল একটি সংখ্যাগত সাফল্য নয়, এটি জগন্নাথদেবের সর্বজনীনতার এক পবিত্র স্বীকৃতি। দীঘা আজ জাতি, সংস্কৃতি ও হৃদয়ের মিলনস্থল। সেখানে ভক্তি আত্মাকে ঋদ্ধ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাঁর দূরদর্শী উদ্যোগেই এই মন্দির সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্প শুধু বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে সুদৃঢ় করেনি, সাধারণ মানুষের জন্য স্থায়ী অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও সৃষ্টি করেছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ