সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: জামতাড়া গ্যাংয়ের নয়া অস্ত্র এবার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন। এসইআর ঘিরে এমনিতেই দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ। সেটাই এখন জামতাড়ার সাইবার অপরাধীদের কাছে পৌষমাস। ফোন করে তারা জানতে চাইছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। আপনার আধার, প্যান কার্ড রয়েছে তো? থাকলে কার্ডে লেখা নম্বরগুলি চটপট ফেলুন। তা যাচাই করে দেখা হবে। ভুল থাকলে সংশোধন করতে হবে। তার জন্য একটা ওটিপি যাবে। সেটা শেয়ার করতে হবে। এমনই ভাঁওতা দিয়ে তারা অ্যাকাউন্ট সাফ করার ছক কষেছে। প্রতারকরা এসআইআরের হয়ে কাজ করছে বলে জানাচ্ছে। পুলিস জানিয়েছে, আধার বা প্যানকার্ডের নম্বর জানতে পারলে সাইবার অপরাধীদের অ্যাকাউন্ট সাফ করতে সময় লাগবে না। কোনও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা যাবে না। ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য যাতে কেউ শেয়ার না করে, তারজন্য বহুদিন ধরেই সচেতনতামূলক প্রচার করা হচ্ছে। তারপরও অনেকেই তথ্য সরবরাহ করে। সাইবার অপরাধীরা নানা কৌশলে তথ্য হাতানোর চেষ্টা করে। যখন যে ইস্যু সামনে আসে সেটাকেই তারা ঢাল করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের কাজ হয়েছে। বাংলাতেও তা করা হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করে দিয়েছে। বিএলওদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের কাজ করবেন। কিন্তু ফোনে কোনও আধিকারিক তথ্য জানতে চাইবে না বলে পুলিস আধিকারিকদের দাবি। এক অধিকারিক বলেন, এখনও এ রাজ্যে এসইআর এর কাজ শুরু হয়নি। সাইবার প্রতারকদের ফোনে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বিহার পুলিস হর্ষিত কুমার নামে সাইবার প্রতরণার এক অন্যতম মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করেছে। সে ৪০ কোটির বেশি টাকা দেশ জুড়ে প্রতরণা করেছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে। মাত্র ২১ বছর বয়সেই সে নিখুঁত ভাবে একের পর এক অপারেশন সেরে পুলিস আধিকারিকদের চমকে দিয়েছে। চীন, ভিয়েতনাম থেকে থেকে সিম বক্স কিনে সে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করত। বাংলা ছাড়াও দিল্লি, ওড়িশা, কর্ণাটক সহ বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দাদের সে সিম বক্স থেকে ফোন করত। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’কে ঢাল করে সেও প্রতরণা করেছে। বিহারের বাসিন্দা ওই প্রতারক একটি গ্যাং তৈরি করে গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিত। সেই গ্যাংয়ের সদস্যরা এখনও অধরা। পুলিস তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। জেলা পুলিসের আর এক আধিকারিক বলেন, এতদিন ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছিল। লাগাতার প্রচার করার পরও অনেক ধনী ব্যক্তি ডিজিটাল অ্যারেস্টের খপ্পরে পড়ে মোটা অঙ্কের টাকা খুইয়েছেন। এবার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন আরেক মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে। নয়া প্রতরণার কৌশল-অস্ত্র ভোঁতা করতেও লাগাতার প্রচার শুরু হবে পুলিস জানিয়েছে।