শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে কেউ শহিদ দিবস পালন করতে পারবে না। লেফটেন্যান্ট গভর্নরের এই নির্দেশ ঘিরে উপত্যকার রাজনীতিতে আগে থেকেই পারদ চড়ছিল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাকে গৃহবন্দি করা হয়। বাদ যাননি মন্ত্রিসভার অন্য সদস্য, এমনকী বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও। তাতে উত্তাপ আরও বাড়ে। আর সোমবার সকালে সেই শহিদ দিবস পালন নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল শ্রীনগর। বেনজিরভাবে মুখ্যমন্ত্রী ওমরকে বাধা দিল পুলিস। ওমরের সঙ্গে পুলিসকর্মীদের ধস্তাধস্তিও হয়। তারপরেও হাল ছাড়েননি ওমর। খানইয়ার এলাকার শহিদদের সমাধিস্থলে পৌঁছান ওমর। কিন্তু সেখানেও বাধা। সমাধিস্থলের গেট তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকে প্রার্থনা করেন ওমর। আর তারপরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নির্দেশেই রাজনৈতিক নেতাদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। বিজেপি কাশ্মীরের বাসিন্দাদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। কাশ্মীরের মানুষ আর কারও দাসত্ব করবে না। আমাদের শহিদ দিবস পালনে বাধা দিচ্ছে। অথচ ওরা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীকে নিয়ে উত্সব করে।
ওমরকে যেভাবে পুলিস বাধা দিয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘শহিদদের সমাধিস্থলে যেতে সমস্যা কোথায়? এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণও করা হচ্ছে। একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আজ সকালে যা ঘটল, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না।’
১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কাশ্মিরীর। সেই সময় কাশ্মীরের তত্কালীন মহারাজা হরি সিংয়ের ডোগরা বাহিনীর গুলিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর কাশ্মীরে শহিদ দিবস পালিত হয়। কিন্তু ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকেই এই শহিদ দিবস পালন নিয়ে নানা কড়াকড়ি জারি করে কেন্দ্র। আর এবার শহিদ দিবস পালনের উপর ‘নিষেধাজ্ঞা’ চাপিয়ে দেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর। রবিবার ওমর পশ্চিমবঙ্গ থেকে শ্রীনগরে ফিরতেই তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। তিনি জানান, রবিবার শহিদদের সমাধিস্থলে যাওয়ার কথা নিরাপত্তা বাহিনীকে বলতেই বাড়ির চারদিক কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। সোমবার কাউকে কিছু না বলেই তিনি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু পুলিস বুঝতে পেরেই তাঁকে বাধা দেয়।
অন্যদিকে, পুলিসের নজর এড়াতে ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আবদুল্লা ফারুক আবদুল্লা অটোরিকশতে চেপে সমাধিস্থলে পৌঁছান। অন্য মন্ত্রীরাও কেউ স্কুটারে বা অন্য উপায়ে সেখানে পৌঁছে যান।