সংবাদদাতা, রামপুরহাট : মারণ ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে মুম্বাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে নলহাটির এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যে তথ্য সামনে এল, তা শুনে স্তম্ভিত পুরো পরিবার সহ পুলিশ প্রশাসন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ওই নাবালিকা যে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তা ধরা পড়ে চিকিৎসকদের পরীক্ষায়। এরপরই সামনে আসে মর্মান্তিক সত্য। নিজের মেজ জামাইবাবুর লালসার শিকার হতে হয়েছে ওই নাবালিকাকে! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা নলহাটি থানার একটি গ্রামের। ঘটনার জেরে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত জামাইবাবুকে গ্রেপ্তার করে নলহাটি থানার পুলিশ। শনিবার আদালত ধৃতকে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত নাবালিকার বয়স মাত্র ১৪ বছর ৫ মাস। সে স্থানীয় এক স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তিন বোনের মধ্যে সে ছোটো। বাকি দু’বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগে মেয়েটি পায়ে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বহরমপুরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সে মারণ ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। রোগের গুরুত্ব বুঝে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি পরিবারের সদস্যরা কালবিলম্ব না করে তাকে মুম্বইয়ের একটি নামজাদা ক্যানসার হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার প্রস্তুতি হিসেবে বেশ কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকরা জানেন যে, ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি নাবালিকা ছাত্রীটি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। রোগী নাবালিকা হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কালবিলম্ব না করে বিষয়টি মুম্বইয়ের স্থানীয় থানায় জানায়। যেহেতু নাবালিকার বাড়ি নলহাটি, তাই মুম্বই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করে নলহাটি থানার পুলিশের সঙ্গে।
চিকিৎসকের থেকে জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা ওই নাবালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। নাবালিকা জানায়, একই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় তার মেজ জামাইবাবু প্রায়শই তাদের বাড়ি আসত। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমন দিনের পর দিন ওই নাবালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। যার জেরেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। একদিকে নিজের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা, অন্যদিকে সেই অবস্থাতেই নাবালিকা শ্যালিকার উপর এই অত্যাচার চালিয়েছে সে। সব তথ্য জানার পর ওই নির্যাতিতার বাবা শুক্রবার নলহাটি থানায় গুণধর জামাইয়ের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে নলহাটি থানার পুলিশ দ্রুত বাড়ি থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনের একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
বর্তমানে ওই নাবালিকা ছাত্রীর মুম্বাইয়ের হাসপাতালেই ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে। নলহাটি থানার পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুতই এক তদন্তকারী আধিকারিক মুম্বাই যাবেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাবালিকার বয়ান সরাসরি রেকর্ড করবেন।