Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

জামাইষষ্ঠী রেস্তরাঁর চেয়ে বাড়িতেই ভালো

জামাইষষ্ঠীতে বাড়িতে রান্নার স্বাদ ও পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রেস্তরাঁর সুবিধা ও বাড়ির আবহের তুলনা। বিস্তারিত পড়ুন।

জামাইষষ্ঠী রেস্তরাঁর চেয়ে বাড়িতেই ভালো
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে:

Advertisement

 বিশ্বজিৎ কর
বাড়িতে জামাইষষ্ঠী পালনের আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। মাটিতে আসনের উপর জামাই বাবাজির বসে থাকা, তারপর সামনে থালায় সুসজ্জিত আহারের ব্যবস্থা, শাশুড়ি-কর্তৃক জামাইয়ের হাতে ‘বাটা’ প্রদান, ধান, দূর্বা এবং চন্দনের ফোঁটা দিয়ে আর্শীবাদ, তৎসহ মঙ্গল শঙ্খধ্বনি! সত্যিই এ এক মনছোঁয়া বাতাবরণ! রেস্তরাঁয় চিরন্তন সংস্কৃতির এই স্বাদ কোনো ভাবেই অনুভূত 
হয় না। 
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী

 রীতা দেবনাথ
বাতাসে আম, কাঁঠালের গন্ধ মনে করিয়ে দেয় জামাইষষ্ঠীর আগমন। সময়ের সঙ্গে সবকিছুর পরিবর্তন হলেও বাড়ির হেঁশেলে এ এক অন্য অনুভূতি। রেস্তরাঁয় পাঁচজনের সঙ্গে আনন্দের চেয়ে বাড়িতে হইচই করে হাত মিলিয়ে রান্না করা, হাসি মজা, আড্ডা দেওয়া, বাড়ির ছোটো সদস্যদের ছুটোছুটিতে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ গড়ে ওঠে। স্বাস্থ্যকর ও হাতের ছোঁয়ার কারণে বাড়ির খাবারগুলি অনবদ্য হয়। জামাইষষ্ঠী মানেই শুধু খাওয়াদাওয়া নয়। এ হল পারিবারিক মেলবন্ধন।
গৃহবধূ 

 দীপমাল্য চন্দ্র
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের তালিকায় শাশুড়ি-জামাইয়ের মিষ্টি বন্ধনের উৎসব জামাইষষ্ঠী। এটি শুধু উৎসব নয়, চিরায়ত লোকাচার।। শাশুড়ি মা এই পবিত্র দিনে অরণ্যষষ্ঠী উপবাস রেখে আদরের জামাইয়ের জন্য পঞ্চব্যঞ্জনের আয়োজন করেন। ইলিশ, চিংড়ি, পাঁঠার মাংস, হরেক রকম ভাজা, মিষ্টি, ফলমূল দিয়ে জামাইয়ের থালা সাজানো হয়। এত আয়োজনে শ্রম থাকলেও মিশে আছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, স্নেহময়তা। তার জেরেই পদের স্বাদও হয় অমৃতসম। এমন মহা মূল্যবান প্রাপ্তিযোগের সুঘ্রাণ কি রেস্তরাঁর টেবিলে মিলবে?
গৃহশিক্ষক

বিপক্ষে:

সুপ্রিয়া সেন
বাজার করতে পারবেন না অসুস্থ শ্বশুর। বয়স্ক শাশুড়ির পক্ষে রান্না সামলানোও মুশকিল। তাও জামাইষষ্ঠী তো পালন করতে হবে। এমত অবস্থায় জামাইকে খাওয়ানোর জন্য সম্ভ্রান্ত রেস্তরাঁই ভরসা। বাড়িতে নিয়ম পালন করে শাশুড়ির আশীর্বাদ নিয়ে জামাই ভোজ সারতে রেস্তরাঁয় যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা অসুবিধার জন্য বাড়িতে আয়োজন করার রেওয়াজ প্রায় কমে গিয়েছে। এই ব্যবস্থায় শাশুড়ি জামাই দু’জনেই খুশি।
গৃহবধূ

 সাম্য বাঁক 
জামাইষষ্ঠীতে জামাইকে পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে খেতে দেওয়ার মধ্যে যে ঐতিহ্য, পরম্পরা ও বাঙালি সংস্কৃতির স্বাদ জড়িয়ে রয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। আকর্ষণীয় ও লোভনীয় রান্না করাই শুধু নয়, প্রতিটি পদের জন্য বাজার থেকে বিবিধ উপকরণ জোগাড় করার ঝক্কিও কম নয়। তারপর পদগুলি সাজিয়ে পরিবেশন করার মানুষ আজকের নিউক্লিয়ার পরিবারে বিরল। পরিবর্তে দামি রেস্তরাঁয় একটি টেবিল বুক করলেই মুশকিল আসান। বহু রেস্তরাঁতেই আজকাল শঙ্খ, প্রদীপ, ধান, দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদের বন্দোবস্তও থাকে।
প্রধান শিক্ষক

দেবলীনা সিনহা
আদ্যিকালের মতো শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ির হাতে পাখার হাওয়া খেতে খেতে পঞ্চব্যঞ্জনে থালা সাজিয়ে ভূরিভোজ করার চেয়ে জামাইরা এখন রেস্তরাঁয় মনোমতো মেনু অর্ডার করেই পেটপুজোতেই বেশি খুশি। এখন প্রায় সকলেই কর্মব্যস্ত। রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া তাই শুধু পরিশ্রমসাধ্য নয়, কঠিনও। অনেকক্ষেত্রে আবার বয়সজনিত কারণে বা অসুস্থতার জন্যও শাশুড়িরা নিজের বাড়িতে জামাইকে আদর আপ্যায়ন করতে পারেন না। তাই রেস্তরাঁয় সুলভ ব্যবস্থা থাকায় সেখানেই জামাইষষ্ঠীর আয়োজন করেন। 
গৃহবধূ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ