ঢাকা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল জামাত-এ-ইসলামি। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যায় শামিল জামাতের একাধিক নেতার ফাঁসিও হয়েছে। অথচ, এক দশকের বেশি সময় ধরে ভোটের রাজনীতিতেও নিষিদ্ধ জামাতই বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে। আগামী মাসে পদ্মাপারে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে জামাত নিজেদের ঢেলে সাজার কাজ শুরু করে দিয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনপ্রিয়তাও। পরিস্থিতি এমনই যে, বৈষম্যবিরোধী পড়ুয়াদের রাজনৈতিক দল এনসিপিও জামাতের সঙ্গে জোট করতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দলটির বাড়বাড়ন্তে উদ্বিগ্ন সেখানকার উদারপন্থী ও সংখ্যালঘুরা। জামাত ক্ষমতায় এলে মৌলবাদীদের দাপাদাপি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার আবহেই নতুন করে প্রাসঙ্গিক হতে শুরু করে জামাত। দুর্নীতি বিরোধী ভাবমূর্তি, জনকল্যাণমূলক কার্যকলাপে জোর দেয় তারা। এবারই প্রথম হিন্দুদের প্রার্থী করেছে জামাত। নারীকল্যাণেও নানা আশ্বাস দিচ্ছে তারা। আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট নামে একটি সংস্থা গত ডিসেম্বরের একটি জনমত সমীক্ষায় জামাতের জনসমর্থনের আঁচ পাওয়া গিয়েছে। বিএনপিকে রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে তারা। যেমন, ঢাকার বাজারের এক ডাব বিক্রেতা মহম্মদ জালাল বলছেন, ‘আমাদের নতুন কিছু প্রয়োজন। আর সেই বিকল্প হল জামাত। ওঁদের ভাবমূর্তি পরিষ্কার।’জামাত প্রধান শফিকুর রহমানের বক্তব্য, ‘আমরা জনকল্যাণমূলক রাজনীতি শুরু করেছি। তাতেই মানুষ জামাতের উপর ভরসা ফিরে পাচ্ছেন।’
সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনেও বিপুল জয় পেয়েছে জামাতের ছাত্র শিবির। এই ঘটনাকে সহজভাবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক মহল। নারীপক্ষ নামে একটি সংগঠনের সদস্য শিরিন হক যেমন বলছেন, ‘মুখে নারী স্বাধীনতার কথা বললেও, নির্বাচনে একজন মহিলাকেও প্রার্থী করেনি জামাত। ভোটে জিতলেই ওরা প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীবিরোধী অবস্থানে ফিরে যাবে।’ একই বক্তব্য হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রী উমামা ফতেমারও। তাঁর কথায়, ‘ওরা নারীদের অধিকারের কথা বলছে, পরদিনই বলছে সন্তান সামলানোর জন্য কর্মরত মহিলাদের দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করার দরকার নেই।’ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা, বিশেষ করে হিন্দুরা। হাসিনা পরবর্তী পর্বে এমনিতেই আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। জামাত ও তাদের জোট ক্ষমতায় এলে এমন হামলা আরও বাড়বে বলে মনে করছে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সংগঠন। এরকম একটি সংগঠনের নেতার বক্তব্য, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনো সরকারই বিশেষ ভাবেনি। কিন্তু আমরা এখন যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছি, তা নজিরবিহীন। জামাত ক্ষমতায় এলে, বাংলাদেশ পুরোপুরি ইসলামপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে আমরা এখনই আতঙ্কিত।’