Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে জামাতের জেতা আসন লাগোয়া এরাজ্যের ২৬টি আসনে জয়ী গেরুয়া শিবির

বাংলাদেশে জামাতের জেতা আসনের লাগোয়া ২৬টি আসনে বিজেপির জয়। সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্যোগী নতুন সরকার। বিস্তারিত পড়ুন।

বাংলাদেশে জামাতের জেতা আসন লাগোয়া  এরাজ্যের ২৬টি আসনে জয়ী গেরুয়া শিবির
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামপন্থী জামাত-ই-ইসলামী। ওই দেশে গত ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জামাত পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া অন্তত ১৭টি আসনে জয়লাভ করে। এনিয়ে রাজ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। এবার বাংলাদেশের ওই সমস্ত এলাকা লাগোয়া এরাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। বাংলাদেশে উগ্র ইসলামপন্থী দলটির উত্থান সীমান্তের এপারের ভোটারদের এককাট্টা করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নতুন রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় জামাতের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হবে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন।

Advertisement

এরাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, জামাতের জেতা আসনগুলির কাছেই সীমান্তের এপারে অন্তত ২৬টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে। ২০২৬সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ হয়েছিল। ফলে জামাত-ই-ইসলামী এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের(বিএনপি) অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। বিএনপির সমস্ত হিসেবনিকেশ ওলটপালট করে দিয়ে এই নির্বাচনে জামাত বিএনপিকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছিল। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করলেও ছাত্র নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক দল(এনসিপি) সহ জামাতের ১১দলীয় জোট ৭৭টি আসন পায়। 
এই ৭৭টির মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা রংপুর, নীলফামারি, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, বাগদহ, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে ১৭টি আসন এসেছে। শিলিগুড়ি করিডর সংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি বড় অংশের আসনে জামাত জয়ী হয়েছিল। এসমস্ত আসনে আগে আওয়ামি লিগ ও জাতীয় পার্টি জিতেছিল। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের এসব এলাকায় জামাতের উত্থানে ভারতের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডর লাগোয়া রংপুর বিভাগে জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা গিয়েছে। এই ‘চিকেন নেক’ করিডর ভারতের নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
এবার বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পরই সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে। সমস্ত উন্মুক্ত সীমান্ত আটকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও মালদহের মতো জেলার সীমান্ত একেবারেই সুরক্ষিত নয়। উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের পাশাপাশি অনুপ্রবেশও খুব সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। এবার সীমান্ত সুরক্ষিত হলে এনিয়ে উদ্বেগ কমবে। সেইসঙ্গে জামাতের কার্যকলাপের উপর নজরদারিতেও সুবিধা হবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ