নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ঝুলিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি। তবু চায়ের দোকানকে সঙ্গী করেই চলছে জীবনযুদ্ধ! জলপাইগুড়ি শহরের ডিবিসি রোডে বাবার সঙ্গে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছেন বি টেক পাশ করা বছর বাইশের যুবক শুভদীপ ঘোষ। যদিও চোখে তাঁর স্বপ্ন, এম টেক করার। চায়ের দোকান সামলানোর ফাঁকেই বইপত্রে চোখ রাখেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার। মেধাবী ছাত্রের এই অধ্যাবসায়কে কুর্নিশ জানাচ্ছেন শহরবাসী।
শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে কয়েক মাস আগে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি টেক শেষ করেছেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান শুভদীপ। ধারদেনা করে প্রায় সাত লক্ষ টাকা খরচে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। বললেন, ছেলে বি টেক পাশ করে ভালো চাকরি পাবে। এমনটাই স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে ছেলেকে যে আমার সঙ্গে চায়ের দোকান চালাতে হবে ভাবিনি। তাঁর দাবি, আমার বয়স হয়েছে। একার পক্ষে দোকান সামলানো মুশকিল। একজন কর্মী রাখতে গেলে তাঁকে মাইনে দিতে হবে। ছেলে বি টেক করে বাড়িতে বসে থাকার চেয়ে আমার সঙ্গে চায়ের দোকান চালানো ভালো। সেকারণে ওকে দোকানে আসতে বলেছি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুভদীপের দোকানে চা খেতে এসেছিলেন অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী। বললেন, একজন মেধাবী ছাত্র, যে বি টেক করেছে, যাঁর চোখে এম টেক করার, সে বাবাকে সাহায্য করতে চায়ের দোকান চালাচ্ছে ভালো কথা। কিন্তু ওই মেধাবী ছাত্রের যোগ্যতা অনুযায়ী চায়ের দোকান চালানো সঠিক জায়গা নয়। বিষয়টি মোটেই সমাজের কাছে ভালো বার্তা দেয় না। আমাদেরও একজন বি টেক পাশ করা ছাত্রের দোকানে এসে চা খেতে খারাপ লাগে। নিজস্ব চিত্র