Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি: পেনশনের অর্ডার মিলছে না কেন, সরব পুরকর্মীরা

বছরের পর বছর ধরে পেনশন পেমেন্ট অর্ডার বা পিপিও মিলছে না কেন, তা নিয়ে সরব হলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার কর্মীরা।

জলপাইগুড়ি: পেনশনের অর্ডার মিলছে না কেন, সরব পুরকর্মীরা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বছরের পর বছর ধরে পেনশন পেমেন্ট অর্ডার বা পিপিও মিলছে না কেন, তা নিয়ে সরব হলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার কর্মীরা। জলপাইগুড়ি সাফাই কর্মচারি একতা মঞ্চের সভাপতি প্রতাপ রাউতের দাবি, জলপাইগুড়ি পুরসভা থেকে অবসরের পর আট-দশ বছর পেরিয়ে গেলেও পিপিও মেলেনি, এমন সাফাইকর্মীর সংখ্যা ২১ জন। এছাড়াও পুরসভার অন্যান্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা বহুদিন আগে অবসর নিলেও এখনও পিপিও পাননি। ফলে তাঁরা শুধু যে পেনশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তা নয়, গ্র্যাচুইটিও পাচ্ছেন না। এনিয়ে পুরসভার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

Advertisement

পুর কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, বাম আমলে নিয়ম না মেনে বেলাগাম নিয়োগের মাশুল দিতে হচ্ছে তাদের। সূত্রের খবর, বাম আমলে জলপাইগুড়ি পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী থেকে স্থায়ী হিসেবে নিয়োগ হয়েছেন, এমন অনেকের ক্ষেত্রে নথিপত্র মিলছে না। ফলে ওইসব কর্মীরা যখন অবসর নিচ্ছেন, পিপিও দিতে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে তাঁদের নিয়োগের নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা দেখাতে পারছে না পুর কর্তৃপক্ষ। যার কারণে ওইসব কর্মীদের পেনশন চালু হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পুরসভাকে নিজের ভাঁড়ার থেকে প্রভিশনাল পেনশন দিতে হচ্ছে তাঁদের।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত ওইসব কর্মীর নথিপত্র খোঁজা হচ্ছে। কীভাবে তাঁরা দ্রুত পেনশন পেমেন্ট অর্ডার পেতে পারেন, তার চেষ্টা চলছে। তবে এটা ঠিক যে, যাঁদের পিপিও ঘিরে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বাম আমলে নিয়োগ হয়েছেন।
বছরের পর বছর ধরে অবসরপ্রাপ্ত সাফাইকর্মীদের পিপিও না মেলার পাশাপাশি সময়ে বেতন না হওয়া এবং বকেয়া এরিয়ার না মেটানো নিয়েও সরব হয়েছেন জলপাইগুড়ি পুরসভার সাফাইকর্মীরা। এসব ইস্যুকে সামনে রেখে আজ, বুধবার তাঁরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে তাঁরা তিনমাসের সময়সীমা বেঁধে দিতে চান পুর কর্তৃপক্ষকে। সমস্যা না মিটলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাফাইকর্মীরা।  
জলপাইগুড়ি সাফাই কর্মচারি একতা মঞ্চের সভাপতি প্রতাপ রাউত বলেন, পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৩১৮ জন অস্থায়ী সাফাইকর্মী রয়েছেন। সময়ে তাঁদের মাইনে হচ্ছে না। দু’মাসের বেতন বকেয়া ছিল। দু’দিন আগে একমাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। এখনও একমাসের বেতন পাওনা। তাছাড়া দুর্গাপুজোর আগেই সাফাইকর্মীদের বকেয়া এরিয়ার মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল পুর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এরিয়ার মেলেনি। অবসরপ্রাপ্ত সাফাইকর্মীরা কেন পিপিও পাচ্ছেন না, সে ব্যাপারেও চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হবে। তাঁর দাবি, অস্থায়ী কর্মীদের যখন স্থায়ী পদে নেওয়া হয়, তখন কীভাবে নেওয়া হয়েছিল তার দায় পুরসভার। সেক্ষেত্রে নথিপত্রের সমস্যার কারণে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা ভুগবেন কেন? এর জবাব পুরসভাকেই দিতে হবে। আমরা তিনমাস সময় দিতে চাই পুর কর্তৃপক্ষকে। এরমধ্যে সমস্যা মেটাতে হবে। যদি তা না হয়, আমরা লাগাতার আন্দোলনে নামব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ