নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ১১ বছর বন্ধ থাকার পর আজ, সোমবার জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টারে চা নিলাম হয়। প্রথম দিন নিলামের জন্য ১ লক্ষ ৫ হাজার কেজি চা আসে। তার মধ্যে ৪৫ হাজার কেজির চা নিলাম হয়েছে এদিন। ই-অকশনে অংশ নেন ৫২ জন ক্রেতা। জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টার থেকে এদিন নিলাম হওয়া চায়ের সর্বোচ্চ দাম মিলেছে ২২৭ টাকা প্রতি কেজি। সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গিয়েছে ১১৪ টাকা প্রতি কেজি। জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নর্থবেঙ্গল টি অকশন কমিটি। নর্থবেঙ্গল টি অকশন কমিটির টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান সঞ্জয় ধানুটি বলেন, উত্তরবঙ্গের পাশাপশি কলকাতা থেকেও অনেক ক্রেতা এদিনের নিলামে অংশ নিয়েছেন।
তবে কিছু বড় কোম্পানি এখনও জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টারের নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ওয়েবসাইট তৈরি করে উঠতে পারেননি। সেই কারণে এদিন তারা নিলামে অংশ নিতে পারেননি। তিনি বলেন, জলপাইগুড়িতে এদিন যে চা নিলাম হয়েছে তার বেশিরভাগটাই বটলিফের চা। বর্তমানে বাজারে চায়ের চাহিদা কম। তবুও যে দাম পাওয়া গিয়েছে, তা যথেষ্ট ভালো। নর্থবেঙ্গল টি অকশন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পুরজিৎ বক্সি গুপ্ত বলেন, জলপাইগুড়ির জন্য এদিনটা ছিল ঐতিহাসিক। ২০০৫ সালে জলপাইগুড়িতে চা নিলাম কেন্দ্র চালু হয়। কিন্তু চায়ের জোগানের অভাবে দু’বার বন্ধ হয় এই নিলাম কেন্দ্র। শেষবার বন্ধ হয় ২০১৪ সালে। অনেক প্রচেষ্টার পর এদিন ফের জলপাইগুড়িতে চা নিলাম কেন্দ্র খুলল। এটি যাতে এবার ভালোভাবে চলে, সেটাই এখন মূল লক্ষ আমাদের। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র থেকে যাতে বেশি পরিমাণ চায়ের নিলাম হয়, সেজন্য ছাড় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যা দেশের আর কোনও চা নিলাম কেন্দ্রে নেই। নিলামের এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ক্রেতা চায়ের দাম মেটান, সেক্ষেত্রে তিনি মোট দামের উপর ২ শতাংশ ছাড় পাবেন। ১৫ দিনের মধ্যে দাম মেটালে, পেমেন্টের উপর ১ শতাংশ ছাড় পাবেন।