নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সেন্ট্রিফিউজ মেশিন নেই। ফলে চারমাসেও জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের পেইন ক্লিনিকে চালু হল না প্লেটলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি চিকিৎসা। যে কারণে রোগীর যন্ত্রণা কমাতে চিকিৎসকদের একমাত্র ভরসা স্টেরয়েড।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সেন্ট্রিফিউজ মেশিন নেই। ফলে চারমাসেও জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের পেইন ক্লিনিকে চালু হল না প্লেটলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি চিকিৎসা। যে কারণে রোগীর যন্ত্রণা কমাতে চিকিৎসকদের একমাত্র ভরসা স্টেরয়েড।
পেইন ক্লিনিকের চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পিআরপি তৈরির জন্য একাধিকবার সেন্ট্রিফিউজ মেশিন চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও তা দেওয়া হয়নি। মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁ অবশ্য বলেছেন, আমরা একটু উন্নত মেশিন পেতে চাইছি, যাতে পিআরপি তৈরির সময় কোনওভাবে সংক্রমণের আশঙ্কা না থাকে। ওই মেশিনের ব্যাপারে স্বাস্থ্যভবনে বলা হয়েছে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যেই পেয়ে যাব।
গত মার্চে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে চালু হয়েছে পেইন ম্যানেজমেন্ট ক্লিনিক। নানা কারণে তৈরি হওয়া ব্যথা-যন্ত্রণা থেকে রোগীকে উপশম দিতেই ওই ক্লিনিক চালু করা হয়। আর যন্ত্রণা-মুক্তির পথ হিসেবে পিআরপি চিকিৎসার কথা বলা হয়েছিল। এক্ষেত্রে রোগীর শরীর থেকে কিছুটা রক্ত সংগ্রহ করা হবে। তারপর সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রের সাহায্যে ওই রক্ত থেকে তৈরি করা হবে প্লেটলেট রিচ প্লাজমা বা পিআরপি। তারপর রোগীর যেখানে ব্যথা-যন্ত্রণা, সেখানে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ওই পিআরপি প্রয়োগ করা হবে। এতেই যন্ত্রণা থেকে উপশম পাবে রোগী। কিন্তু পেইন ক্লিনিক চালুর পর চারমাস পেরিয়ে গেলেও জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ পিআরপি তৈরির জন্য সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে এখন ব্যথা-যন্ত্রণা নিয়ে মেডিক্যালের পেইন ক্লিনিকে রোগী এলেই তাঁকে হয় মুঠোভর্তি ওষুধ কিংবা স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এনিয়ে পেইন ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শঙ্কর রায় বলেন, আমরা সঠিক পদ্ধতি মেনেই চিকিৎসা করছি। অনেকের কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ ওষুধে ব্যথা-যন্ত্রণা কমে যায়। সেই কারণে তাদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা প্রসিডিওর করছি অর্থাৎ যে নার্ভটির কারণে রোগীর যন্ত্রণা হচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করে ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে স্টেরয়েড ইঞ্জেকশনও দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণা কমাতে আমরা যে স্টেরয়েড ব্যবহার করছি, তাতে রোগীর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে পেইন ক্লিনিক চালাতে গেলে যে পিআরপি চিকিৎসা চালুর প্রয়োজন রয়েছে, স্বীকার করে নিয়েছেন ডাঃ শঙ্কর রায়। তিনি বলেন, হাঁটুর ব্যথা, টেনিস এলবো সহ আরও কিছুক্ষেত্রে পিআরপি চিকিৎসা খুবই কার্যকরী। দেখা যাক, কবে আমরা পিআরপি তৈরির মেশিন হাতে পাই।
বর্তমানে সপ্তাহে একদিন (প্রতি মঙ্গলবার) পেইন ম্যানেজমেন্ট ক্লিনিক চলছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে। সেই অনুযায়ী এদিনও ব্যথা-যন্ত্রণায় কাতর রোগীরা ভিড় করেন। পেইন ক্লিনিকে এদিন রোগীর সংখ্যা ছিল ৭২ জন। অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, রিউমেটয়েড আর্থাইটিসে দীর্ঘদিন ভুগছেন, এমন মানুষজনও আসছেন। চিকিৎসকদের দাবি, পেইন ক্লিনিকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি সপ্তাহে ৫-৬ জন রোগীর প্রসিডিওর করা হচ্ছে। পিআরপি চালু হলে চিকিৎসায় খামতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।