নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: হোমওয়ার্ক ছাড়াই শহরের যানজট ও পার্কিং সমস্যার সমাধানে নেমেছিল পুরসভা। মঙ্গলবার পাঁচঘণ্টার বোর্ড মিটিং শেষে এনিয়ে ভুল স্বীকার করে নিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা হোমওয়ার্ক ছাড়াই শহরের যানজট ও পার্কিং সমস্যার সমাধান করতে নেমেছিলাম। সেকারণে তা করে ওঠা যায়নি। ভুল হলে তা স্বীকার করে নিতে অসুবিধা কোথায়। এবার আমরা হোমওয়ার্ক করেই শহরের যানজট ও পার্কিং সমস্যার সমাধানে ময়দানে নামব। আগস্টের পর থেকে পার্কিং সমস্যার সুরাহা হয়ে যাবে।
শহরের মানুষ যে টোটোর দাপট নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত, এদিন তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল ও ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, টোটো সমস্যার সমাধানে প্রচুর মানুষ আমাদের ফোন করছেন। পুরসভায় এসে দরবার করছে। পুরসভা টোটো নিয়ন্ত্রণে ফের পথে নামবে। তবে এজন্য আমাদের পুলিস প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। শীঘ্রই আমরা পুলিসের সঙ্গে বৈঠকে বসব। আগস্ট থেকেই যাতে টোটো নিয়ন্ত্রণ শুরু করা যায়, সেটা দেখছি।
তিনমাস ধরে জলপাইগুড়ি পুরসভায় বোর্ড মিটিং হচ্ছিল না। এনিয়ে তৃণমূলের কাউন্সিলারদের মধ্যেই বাড়ছিল ক্ষোভ। ফলে বাধ্য হয়ে এদিন বোর্ড মিটিংয়ে বসে পুর কর্তৃপক্ষ। বিকেল সাড়ে ৩টেয় শুরু হওয়া বৈঠক চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। চেয়ারপার্সন বলেন, এবার থেকে নিয়মিত যাতে বোর্ড মিটিং করা যায়, তা দেখা হবে। এদিনের বৈঠকে পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বর থেকে জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দারা বাড়ি বাড়ি অম্রুত প্রকল্পের জল পাবেন বলে এদিন জানান ভাইস চেয়ারম্যান। বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নৈশকালীন সাফাই চালু করা হচ্ছে। এজন্য নতুন ট্রাক কিনছে পুরসভা। কলকাতায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অস্থায়ীভাবে জলপাইগুড়ি পুরসভার ভবন চালু করা যায় কি না, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি শহরে ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সঙ্গে ম্যালেরিয়া আক্রান্তেরও খোঁজ মিলেছে। ফলে ডেঙ্গু রুখতে বাড়ি বাড়ি সার্ভে ও নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজ যাতে ভালোভাবে হয়, সেব্যাপারে প্রত্যেক কাউন্সিলারকে দেখতে বলা হয়েছে এদিনের বৈঠকে।