নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নাগরিক পরিষেবা ও শহরের উন্নয়নেই পাখির চোখ। আর এই লক্ষকে সামনে রেখেই পরশু অর্থাৎ ৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছে জলপাইগুড়ি পুরসভা। যদিও বাজেটের আগে এনিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। সময়ে বেতন পাচ্ছেন না অস্থায়ী কর্মীরা। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পেনশন পাচ্ছেন না। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা না পড়ায় পুরসভার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাটাচ করছে পিএফ অফিস। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ‘অবাস্তব’ বাজেট পেশ হলে পুরসভার ভিতরে ও বাইরে প্রতিবাদ হবে।
জলপাইগুড়ি পুরসভা সূত্রে অবশ্য খবর, গতবারের তুলনায় এবার বাজেটে টাকার পরিমাণ বাড়তে চলেছে। গতবছর ৫৮২ কোটির বাজেট পেশ করেছিল জলপাইগুড়ি পুরসভা। ৪২ কোটি টাকা কমিয়ে অবশ্য সম্প্রতি সংশোধিত বাজেট পেশ হয়। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে ৭০১ কোটি টাকার বাজেট করেছিল জলপাইগুড়ি পুরসভা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ না মেলায় গতবছর অনেকটাই ‘সাবধানী’ বাজেট পেশ করে তারা। মূলত রাজ্যের দেওয়া বরাদ্দের উপর নির্ভর করেই তৈরি করা হয় ওই বাজেট। কিন্তু বছর শেষে এসে দেখা যায়, পুরসভার নিজস্ব আয় সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি। যার কারণে, সংশোধিত বাজেটে কমে টাকার পরিমাণ। কিন্তু বিধানসভা ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে এবার প্রায় ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়নমুখী বাজেট হতে পারে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
বাজেটের আগে অবশ্য জলপাইগুড়ি পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। গত ১৪ নভেম্বর নয়া পুরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। ওই একইদিনে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেন সন্দীপ মাহাত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুরসভায় চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গঠন হয়নি। তৈরি হয়নি সাব কমিটি। এনিয়ে তোপ দেগে বাজেট বৈঠক বয়কটের কথা জানিয়ে দিয়েছেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি। তাঁর অভিযোগ, সিআইসি গঠন না করে এভাবে পুরসভা চলতে পারে না। পুরসভায় কোনো অ্যাকাউন্টস কমিটি নেই। একতরফাভাবে পুরসভা চালাচ্ছেন চেয়ারম্যান। এরই প্রতিবাদে আমি বাজেট বৈঠকে হাজির থাকব না।
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেও বাজেট বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন সিপিএম কাউন্সিলার সঞ্চিতা পঞ্চানন। তিনি বলেন, নাগরিক পরিষেবায় নজর না দিয়ে বর্তমান পুরবোর্ড শুধু চমক দিতে ব্যস্ত। চটকাদারি বাজেট নয়, আমি চাই বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাজেট হোক।
প্রাক্তন চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল আদৌও উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। কারণ, চেয়ারপার্সনের পদ চলে যাওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত পুরসভার কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তাঁকে। বাজেট বৈঠকে থাকবেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য এখনই কোনো মন্তব্য করতে নারাজ তিনি।