সংবাদদাতা, খড়্গপুর: রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের আহ্বানে মেদিনীপুর-খড়্গপুরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) নিয়ে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ এর কাজ শুরু করেছে খড়্গপুর আইআইটি। খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপবাবু মঙ্গলবার বিধানসভায় নিজেই একথা জানান। তিনি বলেন, আগের সরকার একাজ কিছুটা শুরু করেছিল। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য বিভিন্ন পঞ্চায়েতকে কিছু কিছু টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। কেউ চারটে পিলার দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কেউ আবার বর্জ্য তোলার জন্য গাড়ি কিনেছে, কিন্তু তার চালক নেই। আমরা নতুনভাবে একাজ শুরু করব।
দিলীপবাবু বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ শহরেরও বড়ো সমস্যা। কোথাও বর্জ্য ফেলার কোনো জায়গা নেই। তাই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জৈব ও অজৈব পৃথক করে এর সুরাহা করতে হবে। আমি মন্ত্রী হওয়ার পরই খড়্গপুর আইআইটিতে গিয়ে এই দু’ই বিষয় নিয়ে ওদের সাহায্য চেয়েছি। ডিরেক্টর, ডিন সহ অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আপাতত মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের জন্য দু’টি পাইলট প্রজেক্ট তৈরির কথা বলেছি। সফল হলে, তা গোটা রাজ্যেই চালু হবে। ওঁরা এতে রাজি হয়েছেন। কাজও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। দিলীপবাবু আরও বলেন, আগের সরকারের আমলে একটি সংস্থার সঙ্গে বেশ কিছু পুরসভার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু, কোনো কাজ হয়নি। গ্রামীণ এলাকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী। খড়্গপুর আইআইটির ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী বলেন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামোন্নয়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই রূপরেখা তৈরি করেছেন আমাদের অধ্যাপক ও গবেষকদের দল। খুব শীঘ্রই তা মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন হবে। এনিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরও হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে উভয়পক্ষের তরফে।
এদিকে, মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, আমাদের ধর্মার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ইতিমধ্যেই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু হয়েছে। একটি কলকাতা ও একটি মুর্শিদাবাদের সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ইউনিট তৈরির কাজও এগিয়ে গিয়েছে। তবে, মন্ত্রীর উদ্যোগে খড়্গপুর আইআইটির সাহায্য পেলে সেটা ভালই হবে।