সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দু’চাকার যানে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তাঁর নেশা। সেই নেশাই হল কাল! মর্মান্তিক বাইক দুর্ঘটনায় মাত্র ৪৪ বছর বয়সেই থেমে গেল ঢাকুরিয়ার ‘বাইক রাইডার’ দেবাহুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের চাকা। রবিবার বিকেলে খড়্গপুর গ্রামীণের বালিহাটি এলাকায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দুর্ঘটনায় পড়ে দেবাহুতির বাইক। জাতীয় সড়কের উপর ছিটকে পড়েন দেবাহুতি ও তাঁর ‘পিলিয়ন রাইডার’ টুম্পা। দুজনকেই উদ্ধার করে মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মৃত্যু হয় দেবাহুতির। সোমবার মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। টুম্পাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার ও সহযাত্রীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪৪ বছর বয়সি দেবাহুতির বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায়। রবিবার মোট আটটি বাইকে চেপে দেবাহুতি সহ ১৫ জন ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন। সেই দলে ছিলেন দেবাহুতির ছেলে অনিকেতও। তবে, তিনি মায়ের বাইকের কিছুটা আগে অন্য একটি বাইকে ছিলেন। দেবাহুতির বাইকে ছিলেন টুম্পা পাল নামে একজন। জখম টুম্পা জানান, খড়্গপুর গ্রামীণের বালিহাটি এলাকায় জাতীয় সড়কের উপর একটি গর্তে পড়ে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারান দেবাহুতি। বাইকের গতি ভালোই ছিল। ফলে তাঁরা ছিটকে পড়েন রাস্তার ধারে। গার্ডরেলে ধাক্কা লাগে দেবাহুতির। দ্রুত তাঁর ছেলে সহ অন্য সহযাত্রীরা এসে তাঁদের উদ্ধার করে মোহনপুর ব্রিজের কাছে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ দেবাহুতির মৃত্যু হয়। সোমবার মেদিনীপুর মেডিকেলে ময়নাতদন্তের পর সন্ধ্যা নাগাদ দেহ নিয়ে ঢাকুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন সহযাত্রীরা।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় কলকাতার বিভিন্ন বাইক রাইডার দলের তরফেই শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেবাহুতি দেবীর পিলিয়ন রাইডার টুম্পাদেবী। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে মেদিনীপুরের এক আধিকারিক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানেও সংস্কার শুরু হয়ছে।’