Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি: ‘সভাপতির নির্দেশেই করতে বাধ্য হয়েছি’, ওঠবস নিয়ে ফের মুখ খুললেন প্রধান শিক্ষিকা

কান ধরে ওঠবসের ভিডিও ফুটেজ কাণ্ড নিয়ে ফের মুখ খুললেন জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস।

জলপাইগুড়ি: ‘সভাপতির নির্দেশেই করতে বাধ্য হয়েছি’, ওঠবস নিয়ে ফের মুখ খুললেন প্রধান শিক্ষিকা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কান ধরে ওঠবসের ভিডিও ফুটেজ কাণ্ড নিয়ে ফের মুখ খুললেন জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস। শুক্রবার নিজের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ভয় পেয়ে নয়, বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতির নির্দেশে ওই কাজ করতে বাধ্য হয়েছি আমি। তাঁর এই দাবি ঘিরে শহরে নতুন করে আলোড়ন ছড়িয়েছে। যদিও প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ উড়িয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা জলপাইগুড়ি পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় এদিন বলেন, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, ওই ফুটেজ বিকৃত করা হয়েছে। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।

Advertisement

স্কুলের ভিতর প্রধান শিক্ষিকাকে ‘হেনস্তা’র প্রতিবাদে এদিন জলপাইগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘটের ডাক দেয় শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চ। যদিও স্কুলগুলিতে ওই ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি। যে স্কুলের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়, সেই সুনীতিবালা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও সচল ছিল। তবে প্রধান শিক্ষিকা এদিন স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় সই না করে কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যান। এনিয়ে তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত কাজের জন্য আমি এদিন ক্যাজুয়াল লিভ নিয়েছি। মিড ডে মিল সহ দৈনন্দিন বিদ্যালয় পরিচালনায় যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য স্কুলে কিছু কাজ সারতে এসেছিলাম। হাজিরা খাতায় সই করিনি। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি অমিত সাহার দাবি, আমরা শহরের প্রতিটি স্কুলে ঘুরেছি। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সচল ছিল। কোথাও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি।
কান ধরে ওঠবসের ভিডিও প্রসঙ্গে দু’দিন আগে বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ সহ শিক্ষিকা দাবি করেন, স্কুলে হাজির থেকেও এমন কোনও ঘটনার কথা জানতেন না তাঁরা। প্রধান শিক্ষিকাও তাঁদের এনিয়ে কিছু জানাননি। এদিন অবশ্য পাল্টা সহ শিক্ষিকাদের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধান শিক্ষিকার দাবি, স্কুলে সমান্তরাল প্রশাসন চলছে। এমনকী এই স্কুল থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
প্রধান শিক্ষিকা নিজের মর্জিমতো স্কুল চালাচ্ছেন বলে দু’দিন আগে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ, আগে থেকে আমাদের পরীক্ষার রুটিন পর্যন্ত জানানো হচ্ছে না। এবছর স্কুলে স্পোর্টস হয়নি। দিনদিন বিদ্যালয়ের মান নামছে। এনিয়ে প্রধান শিক্ষিকার দাবি, স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে জানানোর জন্য যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে, সেখান থেকে সহ শিক্ষিকারা বেরিয়ে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্কুলের সার্ধ শতবর্ষের অনুষ্ঠানের সঙ্গেই স্পোর্টস হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু স্কুলের দেড়শো বছরের অনুষ্ঠান কি হবে? প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য, সহ শিক্ষিকারা এবং বিদ্যালয়ের যাঁরা পদাধিকারী রয়েছেন, তাঁরা সবাই এগিয়ে এলে আমার তরফ থেকে নিশ্চয়ই সহযোগিতা থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ