Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোটি টাকার চাকরি পেলেন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সুমন বেরা

বছরে কোটি টাকা বেতন! বিটেক শেষের আগেই লোভনীয় চাকরির অফার পেলেন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়ুয়া সুমন বেরা।

কোটি টাকার চাকরি পেলেন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সুমন বেরা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বছরে কোটি টাকা বেতন! বিটেক শেষের আগেই লোভনীয় চাকরির অফার পেলেন জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়ুয়া সুমন বেরা। তাঁর বাড়ি খড়্গপুর শহর থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে, বারবাশি গ্রাম। প্রান্তিক চাষির ছেলে সুমন বর্তমানে ওই কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। মার্কিন বহুজাতিক আইটি কোম্পানি মাইক্রোসফটের অধীন পেশাদার নেটওয়ার্কিং সোশ্যাল মিডিয়া ‘লিঙ্কডইন’ থেকে তাঁর কাছে এসেছে মোটা মাইনের চাকরির অফার লেটার।তাতেই খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে কলেজের পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলে। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের জুলাই মাসে কলেজ শেষ করে সুমন বেঙ্গালুরুতে ওই সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দেবেন।

Advertisement

১৯৬১ সালে পথচলা শুরু হয়েছিল জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের। সেখানকার কোনও পড়ুয়া এর আগে এত মোটা মাইনের চাকরির অফার পাননি। গত বছর জুলাইয়ে গুগলে বছরে ৫৪ লক্ষ টাকার চাকরি পেয়েছেন এই কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রী শ্রেয়া সরকার। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুতে গুগলের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবরে এই কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের আর এক ছাত্রী, ব্যান্ডেলের বাসিন্দা তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক্রোসফটে বছরে ৫৪ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের ছাপিয়ে গিয়েছেন সুমন। যদিও একেবারে প্রান্তিক চাষির ঘরের সন্তান হওয়ায় কলেজে পা রাখার আগে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কী, সেটাও জানতেন না। ভরতির পর কলেজের কোডার্স ক্লাবের সাহায্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে এখন তিনি সেই ক্লাবের সম্পাদক।
বারবাশি গ্রামে সুমনদের একফালি কৃষিজমি রয়েছে। যদিও বয়সের কারণে বাবা অচলকুমার বেরা এখন আর সেভাবে চাষাবাদ করতে পারেন না। দুই দিদির একজনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অন্যজন গ্রামে টিউশন পড়িয়ে কিছুটা রোজগার করেন। রাজ্য সরকারের তরফে কিছু ভাতা মেলে। অষ্টম শ্রেণি থেকেই স্কলারশিপ পেয়ে নিজের পড়াশোনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন সুমন। লক্ষ্য ছিল, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি যারপরনাই খুশি।শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে সুমন বলেন, ‘২০২৪ সালের অক্টোবরে লিঙ্কডইন-এ ইন্টার্নশিপের জন্য মনোনীত হই। গত বছর মে মাসে বেঙ্গালুরুতে তিনমাসের ইন্টার্নশিপ করে আসি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে লিঙ্কডইন থেকে বছরে প্রায় এক কোটি টাকার জব অফার লেটার এসেছে।’
জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান আদিত্য সামন্ত বলেন, ‘সুমনের কোটি টাকার চাকরি পাওয়া আমাদের কাছে সত্যিই গর্বের বিষয়। কলেজের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও পড়ুয়া শুরুতেই এত মোটা বেতনের চাকরির অফার পেল। ছেলেটির পরিবার অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল। মূলত স্কলারশিপের টাকাতেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।’ কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান তথা কলেজের কোডার্স ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুভাষ বর্মন বলেন, ‘আমাদের কলেজের কোডার্স ক্লাবে বিভিন্ন ধরনের কম্পিটিটিভ কোডিংয়ের চর্চা হয়, যা পড়ুয়াদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ওই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মেধার জোরে সুমন নিজেকে আজ সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে পারল।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ