Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি: সাফাই হয় না নালা, বাড়ছে ডেঙ্গু, রাস্তার ধারে অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ক্ষোভ

শহরে বাড়ছে ডেঙ্গু। খোঁজ মিলেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের। ডেঙ্গু রুখতে ছাড়া হচ্ছে গাপ্পি মাছ। অথচ সংস্কারের অভাবে জলপাইগুড়ি শহরের বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই নিকাশিনালার হাল বেহাল।

জলপাইগুড়ি: সাফাই হয় না নালা, বাড়ছে ডেঙ্গু, রাস্তার ধারে অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ক্ষোভ
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরে বাড়ছে ডেঙ্গু। খোঁজ মিলেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের। ডেঙ্গু রুখতে ছাড়া হচ্ছে গাপ্পি মাছ। অথচ সংস্কারের অভাবে জলপাইগুড়ি শহরের বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই নিকাশিনালার হাল বেহাল। আবর্জনায় ভরে গিয়েছে ছোট-বড় নালা। অভিযোগ, নিয়মিত বর্জ্য সাফাই না হওয়ায় শহরের রাস্তার দু’পাশ কার্যত অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। সবমিলিয়ে পুর পরিষেবার হাল নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোটা শহরকে কার্যত ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। অথচ পুরসভার কোনও হেলদোল নেই। 

Advertisement

চলতি মরশুমে জলপাইগুড়ি শহরে ১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত একজনের খোঁজ মিলেছে। এছাড়া শহরে জাপানি এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন একজন। তারপরও পুরসভার গয়ংগচ্ছ মনোভাবে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। 
যদিও জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিকাশি নালা সাফাইয়ের জন্য প্রতি ওয়ার্ডেই আমাদের কর্মী রয়েছে। কিছু হাইড্র্যান্ট সংস্কার করেছি আমরা। বাকিগুলিও হবে। যদিও শহরের বহু ড্রেন আবর্জনায় যে ভরে রয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন সৈকত। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পুরসভা পরিষ্কার করার পর ফের ড্রেনের মধ্যে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। চায়ের দোকান, হোটেলের আশপাশে ড্রেনের হাল সবচেয়ে খারাপ। যথেচ্ছভাবে ওইসব দোকান, হোটেলে ব্যবহার হওয়া চায়ের কাগজের কাপ, কাগজের থালা, বাটি ফেলা হচ্ছে। আমরা এনিয়ে প্রথমে ওইসব দোকানদারদের সতর্ক করব। তাতে কাজ না হলে প্রয়োজনে জরিমানার পথে হাঁটা হবে। 
বুধবার জলপাইগুড়ি শহরের মাসকলাইবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার হাইড্র্যান্টের অবস্থা খুবই খারাপ। আবর্জনা জমে নিকাশি নালার অবস্থা এমন হয়েছে যে, জল বেরনোর উপায় নেই। জমা জলে মশার লার্ভা কিলবিল করছে। স্থানীয় কাউন্সিলার পিঙ্কু বিশ্বাস বলেন, কিছুদিন আগে আমরা একটি হাইড্র্যান্ট সংস্কার করেছি। শীঘ্রই আরও একটি নিকাশি নালা সংস্কার করা হবে। 
এদিন শহরের রাজবাড়ি এলাকায় আবর্জনা জমে নিকাশি নালা ভরাট হয়ে যেতে দেখে ক্ষোভ উগড়ে দেন ভাইস চেয়ারম্যান। দ্রুত ওই নালা সাফাইয়ের নির্দেশ দেন তিনি। সেইসঙ্গে কারা ড্রেনে আবর্জনা ফেলছেন, তাদের উপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 
এদিকে, শহরে বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন লাগোয়া মোহন বাগান অ্যাভিনিউতে দিনের পর দিন ধরে রাস্তার উপরেই ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। জায়গাটি রীতিমতো অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়ে গিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়া যায় না। পাশেই স্কুল। নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের। পুরসভার দাবি, ওই এলাকা থেকে আবর্জনা সরানো হয়। রাতের অন্ধকারে আবার কে বা কারা আবর্জনা ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে। 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ