Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি: জাপানি এনসেফেলাইটিসে মৃত্যু! সঙ্কটজনক আরও একজন, উদ্বেগ

ডেঙ্গুর মাঝেই এবার জলপাইগুড়িতে জাপানি এনসেফেলাইটিসের থাবা। সদর ব্লকে ইতিমধ্যেই জেই’তে দু’জনের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটল।

জলপাইগুড়ি: জাপানি এনসেফেলাইটিসে মৃত্যু! সঙ্কটজনক আরও একজন, উদ্বেগ
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডেঙ্গুর মাঝেই এবার জলপাইগুড়িতে জাপানি এনসেফেলাইটিসের থাবা। সদর ব্লকে ইতিমধ্যেই জেই’তে দু’জনের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটল। এরমধ্যে দু'দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। তিনি পাহাড়পুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আরও একজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন।

Advertisement

সূত্রের খবর, জাপানি এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ বছরের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। যদিও জেইতে আক্রান্ত হয়েই যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এমনটা সরাসরি স্বীকার করা হয়নি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে।  জেইতে আক্রান্ত হয়ে মেডিক্যালে ভর্তি বাহাদুর পঞ্চায়েতের রূপলাল হাজরা (৫৮)। জাপানি এনসেফেলাইটিসে আক্রান্তের হদিশ মিলতেই উদ্বেগে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। খবর পেয়েই এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে। বৃহস্পতিবার এনিয়ে জলপাইগুড়ি জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন স্বাস্থ্যভবনের কর্তারা। কীভাবে ওই দু’জন জাপানি এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হলেন, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা। কোনওভাবে যাতে ওই রোগ না ছড়ায়, সে ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রাজ্যের নির্দেশমতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। আক্রান্তদের বাড়ির পাঁচ কিমির মধ্যে কোথাও শুয়োরের খামার আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি সদর বিডিও’র অফিসে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও ব্লক প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন আধিকারিকের একপ্রস্থ বৈঠক হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীভাবে পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। জলপাইগুড়ি সদরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু বলেন, ‘আমাদের ব্লকে জাপানি এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত দু’জনের খোঁজ মিলেছে। তাঁরা পাহাড়পুর ও বাহাদুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে জেই’র উপসর্গ থাকা একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। অন্যজন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে আইসিইউ’তে ভর্তি।’ তাঁর দাবি, ‘কীভাবে ওই দু’জন জেই’তে আক্রান্ত হলেন, তার খোঁজ চলছে। জাপানি এনসেফেলাইটিস ছড়ানোর কোনও উৎস ওই এলাকায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছি আমরা। তেমন কিছু পাওয়া গেলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা বিষয়টি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠকও করেন।’  
এদিকে, বর্ষা শুরু হতেই জলপাইগুড়ি জেলায় মাথাচাড়া দিয়েছে ডেঙ্গু। চলতি বছরে এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৫। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে। এখানে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ জন। শুধুমাত্র জলপাইগুড়ি শহর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১২। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার এদিন বলেন, এখনও পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৫।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ